আমার কথা
প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৪, ২০:০২
লেখালেখির জগতে এসেছি সত্তর দশকে। স্কুল কলেজে পড়ার সময় প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম পুরস্কার পেয়েছি সব সময়। নিজের শহর পটুয়াখালী। ওখানকার শহীদ স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় ১ম হয়ে ‘ভাসানী যখন ইয়োরোপে’ বইটি উপহার পেয়েছি। অনেক পরে ঢাকায় এসে পর্যটন কর্পোরেশনের প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় ১ম হয়ে তিনদিন কাঠমুন্ডু ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছি। এর পর যেখানেই প্রতিযোগিতা সেখানেই আমি। বড় ভাইয়ের একমাত্র নবজাতক পুত্রের মৃত্যুতে ব্যথিত হয়ে স্থানীয় “আন্ধার মালিক” পত্রিকায় প্রথম গল্প লিখেছিলাম। ঢাকায় এলাম ৬৬-৬৭ সালে। প্রথম পরিচিত হলাম দৈনিক বাংলার সাংবাদিক মোস্তফা কামাল ভাইর সাথে। সাংবাদিক সানাউল্লাহ নূরী ভাই, আব্দুল গাফফার চৌধুরী ভাই, মাফরূহা চৌধুরী আপা এঁরা আমার লেখালেখি এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছেন। ঢাকায় তো সাহিত্যের উন্মুক্ত জগত্। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে এম.এ পাস করে বাংলা সাহিত্যের জগতে পা রাখতে অসুবিধা হয়নি। আমার স্কুল শিক্ষক অতুলচন্দ্র দাস (কাব্যতীর্থ) কলেজের বাংলার অধ্যাপক বিশিষ্ট গীতিকার আনিসুল হক চৌধুরী আমার বাংলা লেখার প্রশংসা করতেন। তখন প্রচুর গল্পের বই পড়তাম। ভাবিনি নিজে গল্প লিখিয়ে হবো। ঢাকায় পত্র-পত্রিকার ছড়াছড়ি। ধীরে ধীরে গল্পের জগতে প্রবেশ করলাম। সাপ্তাহিক বেগম, ললনার পাশাপাশি কত দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা! সবটাতেই লেখা পাঠাই। ছাপা হয়। উত্সাহ বাড়ে। তখন ভেবেছি আমার লেখা দেখে প্রকাশকরা আমার কাছে আসবেন। বই ছাপাব। বোকার মতো ভাবনা। ঢাকা ডাইজেস্ট-এ এক গল্প পড়ে পুরানা পল্টন গার্লস কলেজে আমার খোঁজে এলেন অধ্যক্ষ দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ। পরিচিত হলাম শাহেদ আলী ভাইর সাথে। তাঁরই সৌজন্যে আমার প্রথম দুটি বই হাজী শরিয়তুল্লাহ জীবনী এবং ইতিহাসে বঙ্গ বিভাগ প্রকাশিত হল। গল্পের মতো করে জীবনী লেখা। শাহেদ আলী ভাই বললেন, ছোটদের জন্য লেখা সহজ নয়। ভেবে-চিন্তে ওদের বোধগম্য করে লিখতে হবে। সেটা ১৯৮২ সাল। গ্রামীণ পরিবেশে আমার শৈশব কেটেছে। শহরে যখন বাস, তখনও ছুটে গেছি গ্রামে। গ্রামের খাল বিল, জঙ্গল নদীর সাথে আমার নিবিড় পরিচয়। গ্রামের পরিবেশ আমার আত্মার সাথে মিশে আছে। আমার গল্পে গ্রামের মানুষের জীবন কথা তুলে এনেছি। ঝড়ের দেশ, বন্যার দেশ বরিশাল। সেই ঘূর্ণিঝড়ের কথা, অসহায় মানুষের আকুলতা গল্পে তুলে আনতে আমার কষ্ট হয়নি।
দেশে পত্র-পত্রিকার সংখ্যা বেশি থাকা ভালো। অনেকে অনেক লেখার সুযোগ পায়। দৈনিক বাংলা, দৈনিক জনকণ্ঠ, সংবাদ-এ লিখে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছি। সচিত্র বাংলাদেশ-এ লেখা দিয়ে আসতাম। সম্পাদক কে.জি. মোস্তফা ভাই গম্ভীর মুখে লেখা রাখতেন। একটা বাড়তি কথাও বলতেন না। নবারুন এর আব্দুস সাত্তার ভাই মজার মজার গল্প বলে আটকে রাখতেন। খালেদা এদিব চৌধুরী আপা অনেক সহযোগিতা করেছেন। সাফরূহা চৌধুরীরও সহযোগিতা পেয়েছি।
আমার শিশু-কিশোর গ্রন্থ ২৩টি প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গল্প-উপন্যাস রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের সময় করাচি বন্দি থাকার সময়ে নব্বই বছরের এক গ্রাম্য বুড়ি বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য একটা রোজা রেখেছিল সে কথা আমি “মানত” গল্পে তুলে ধরেছি। লেখার মূল্যায়ন যে হয়নি তা নয়। বে-সরকারি পর্যায়ে অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে পুরস্কৃত হয়েছি। পুরস্কারের জন্য লেখক লেখেন না। তবে পুরস্কার প্রাপ্তি লেখককে উদ্দীপ্ত করে। আমি লিখতে ভালবাসি। প্রথমে মনের পাতায় লেখা সাজাই। পরে তা কাগজের পাতায় তুলে আনি।
সকলের লেখা হাতে পেয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমার কলম যেন সচল থাকে এই প্রার্থনা বিধাতার কাছে।