হুতুমপেঁচার ছানা

বোশেখ মাস পেঁচানীর ডিম পাড়ার সময় হয়েছে। তালগাছে, খেজুরগাছে,..... কোথাও সুবিধামত ডিমপাড়ার জায়গা পেল না। উড়তে উড়তে হঠাত্ দেখল একটি কাকের বাসা, সেখানে কাকনী বসে ডিমে তা দিচ্ছে। পেঁচানী কাকনীকে কাঁকুতি মিনতি করে বলতে লাগল দেখ ভাই আমি ডিমপাড়ার মত কোন জায়গা পাচ্ছি না। তোমার বাসায় আমাকে ডিম পাড়তে দেবে? কাকনী বলল ঠিক আছে আগামীকাল দুপুরে তুমি এসো। পরদিন যথারীতি পেঁচানী কাকনীর বাসায় গিয়ে হাজির, কাকনী তার বাসায় বসে তিনটি ডিমে তা দিচ্ছে। কাকনী বললো দেখ ভাই পেঁচানী তোমাকে ডিম পাড়তে দিচ্ছি কিন্তু আমার কোন ডিম ভাঙতে পারবে না। সাবধানে তুমি ডিম পাড়তে থাক, আমি একটু আকাশে উড়ে আসি গত সাতদিন ধরে কিছু খেতে পাচ্ছি না, আর আকাশে পাখা মেলতে পারিনি। পেঁচানী বললো ঠিক আছে ভাই তুমি ঘুরে আস, আমি সাবধানে ডিম পাড়ছি, তোমার একটি ডিমও নষ্ট করব না। কাকনী পেঁচানীকে বাসায় বসিয়ে দিয়ে এক উড়াল দিয়ে ডাস্টবিনে গিয়ে হাজির, সেখান থেকে পেট ভরে খাবার খেয়ে আকাশে উড়তে লাগল। সারা দুপুর ও বিকেল আকাশে ঘুরে সন্ধ্যায় কাকনী বাসায় ফিরল। বাসায় ফিরে দেখে পেঁচানী ডিমে তা দিচ্ছে, কাকনী পেঁচানীকে জিজ্ঞেস করল তুমি কয়টি ডিম পেড়েছ, পেঁচানী বলল দুটি ডিম পেড়েছি। কাকনী বলল ঠিক আছে ভাই তুমি আজকে রাত্রি ও আগামীকাল সারাদিন ডিমে তা দেবে, তোমার ডিমগুলোতে দু’দিন তোমাকে তা দিতে হবে। একদিন পর আবার কাকনী ও পেঁচানী ডিমে তা দিতে লাগল। তা দেয়ার সময় একদিন সকালে কাকনী দেখে ডিম ফুটে একটি পেঁচার ছানা ও একটি কাকের ছানা বেরিয়ে এসেছে। ছানা দু’টি দেখে কাকনীর মহাখুশী, ছানা দু’টি নাদুস-নুদুস তুলতুলে, পেঁচানীকে ডেকে ছানা দু’টি দেখাল, পেঁচানীও ছানা দু’টি দেখে মহাখুশী। দু’দিন পর সবগুলো ডিম ফুটে তিনটি কাকের ছানা ও দুটি পেঁচার ছানা কাকের বাসা ভরে গেল। ছানাগুলো সারাদিন ঠোঁট দু’টি ফাঁক করে হা করে থাকে আর চিউ চিউ করে খাবার চায়। কাকনী ও পেঁচানী তাদের জন্য ঠোঁটে করে খাবার এনে মুখে পুরে খাইয়ে দেয়। এভাবে খেতে খেতে ছানাগুলো ধীরে ধীরে বড় হতে লাগল। বড় হতে হতে কাকের ছানা ও পেঁচার ছানাগুলোর মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব হতে লাগল। একসময় তারা উড়তে শিখল। আকাশে মুক্তভাবে কাকের ছানা ও পেঁচার ছানারা ঘুরে বেড়ায়। ধীরে ধীরে তারা বড় হয়ে গেল। তারা পাঁচ বন্ধু এখন থেকে একসাথেই থাকে। একটি বড় বাসা তৈরি করে সেখানে বসবাস করে। দিনের বেলায় পেঁচা দু’টি ঘুমায় আর কাক তিনটি এদিক সেদিক ঘুরা-ফেরা করে খাবার খায়, আবার কিছু খাবার বন্ধু পেঁচা দু’টির জন্য রেখে দেয়, একইভাবে রাতের বেলার কাক তিনটি ঘুমায় আর পেঁচা দু’টি অন্ধকারে ঘুরা-ফেরা করে খাবার খায় এবং কিছু খাবার কাক তিনটির জন্য রেখে দেয়। এভাবে তাদের দিন চলতে লাগল।