অপহূত ছাত্রীদের খুঁজে পেতে মার্কিন বিমানের তল্লাশি শুরু

বোকো হারামের ‘বন্দী’ বিনিময় প্রস্তাবে নাইজেরিয়ার না নাইজেরিয়ায় নিখোঁজ স্কুল ছাত্রীদের খুঁজে বের করতে মনুষ্যচালিত বিমানের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ মিশন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাছাড়া দেশটির সরকারের সাথে সাথে বাণিজ্যিক উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিগুলোতে নজর রাখছে ইউএসএ। দেশটির বোর্নো রাজ্য থেকে দু’শর বেশি ছাত্রীকে অপহরণের প্রায় এক মাস পর সোমবার বোকো হারাম ছাত্রীদের একটি ভিডিও চিত্র প্রকাশ করে। এরপর পরই দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা ঐ পদক্ষেপের কথা জানালো। এদিকে অপহূত স্কুল ছাত্রীদের বিনিময়ে নাইজেরিয়ার কারাগার-গুলোতে বন্দি বোকো হারাম সদস্যদের ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটির সরকারের সাথে তারা বাণিজ্যিক উপগ্রহের মাধ্যমে তোলা ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সরকারের অনুমতি নিয়েই সারা দেশজুড়ে বিমানের মাধ্যমে আইএসআর (ধীশক্তি, পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শনকরণ) প্রজেক্ট পরিচালনা করছেন। এই দলে ইউএস গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৩০ জন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। এ প্রজেক্টে কী ধরনের বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে সেটি জানা না গেলেও এর মাধ্যমে অনেক দূর থেকে মোবাইল ফোন ও টেলি যোগাযোগের কথোপকথন শোনা যাবে। ওদিকে অন্য কর্মকর্তরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে মনুষ্যবিহীন ড্রোন বিমান ব্যবহারের কথাও ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া প্রয়োজনীয় সূত্র বের করতে বোকো হারামের প্রকাশিত ভিডিওটি মার্কিন বিশেষজ্ঞ দল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে ইউএস স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন। অন্যদিকে সংগঠনটির নেতা আবুবকর শেকাউ বলেছেন, কারাবন্দি বোকো হারাম সদস্যদের ছেড়ে দিলেই এই ছাত্রীদের মুক্তি দেবে তারা। এর আগে তারা অপহূত ছাত্রীদের বিক্রি করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু নাইজেরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাবা মোরো জানিয়েছেন, দু’শর বেশি স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর এমন প্রস্তাব দেবার মত নৈতিক কোন অধিকার নেই জঙ্গি সংগঠনটির। অবশ্য দেশটির একজন সিনেটর আলী এনদুম সরকারকে প্রয়োজনে নমনীয় হবার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে প্রকাশিত ভিডিও দেখে অপহূত স্কুল ছাত্রীদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মেয়েরা বেঁচে আছে দেখে তারা আশান্বিত হয়েছিলেন, কিন্তু তাদেরকে ইসলামি পোশাক পরিহিত দেখে তারা মর্মাহত হয়েছেন। অপহূত ছাত্রীদের বেশিরভাগই ছিল খ্রিষ্টান। ১৭ মিনিটের ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, খোলা আকাশের নিচে শতাধিক মেয়ে বসে সমস্বরে কোরানের আয়াত পাঠ করছে। তারা পুরো গা ঢাকা কালো পোশাকে এবং মাথায় হিজাব পরা। এই মেয়েরা ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছে বলে ভিডিও চিত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।