তরুণ সমাজ কি হতাশ

তরুণ সমাজ হতাশ নানা কারণে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ আজ নানা কারণে হতাশ। অপসংস্কৃতি, বেকারত্ব, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, গুণগত শিক্ষার অভাব ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক সেশনজট আজ তরুণ সমাজকে হতাশা বাড়িয়ে দিচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রের কথা বলতে গেলে গুণগত শিক্ষার অভাব এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সেশন জটকে মনে পড়ে যায়। শিক্ষার্থীরা যখন আমাদের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিগৃহিত সেশনজটকে অতিক্রম করে ভালো কোন ফলাফল লাভ করে ঠিক তখনই বেকারত্ব বা ভালো চাকরি না পাওয়া তরুণ সমাজকে আরও হতাশায় ভোগতে হয়। সিকদার আনিছুর রহমান সরকারী বি. এম. কলেজ, বরিশাল বি এ অনার্স (ইংরেজী), এম এ অধ্যয়নরত বরিশাল সদর, বরিশাল। তরুণরা কাজের মাধ্যমে হতাশাকে দূরে ঠেলে দেয় তরুণরা সমাজের অগ্রপথিক। তাঁরাই দেশকে নিয়ে যাবে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে। তারা তাদের মেধা,মনন ও সৃজনশীলতা দিয়ে দেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবে। অথচ আমাদের তারুণরা আজ দিকভ্রান্ত। তারা নিজেরাই জানে না যে তাদের মধ্যে কি লুকায়িত আছে। অনেকটা সার্কাসের হাতির মত। হাতিটাকে একটা খুঁটির সাথে সামান্য একটা রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। হাতিটা ইচ্ছা করলেই রশি ছিঁড়ে পালাতে পারে। কিন্তু সে তার নিজের শক্তি সম্পর্কে জানেই না। ঠিক তেমনি আমাদের তারুণরাও তাদের শক্তি সম্পর্কে অজ্ঞাত। তাদের মধ্যে রয়েছে অমিত প্রতিভা, সম্ভাবনা এবং আরও কত কি। কিন্তু তাদের অজ্ঞতার ফলেই আজ তারা হতাশ। তাই তারুণদেরকে বলব, চল জেগে উঠি। চলো দেখিয়ে দেই পৃথিবীটাকে যে আমরা আর হতাশ নই। মো. ইয়ামিন মাসুম বিবিএ (ইন্টারনিরত) ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া। তরুণ সমাজে হতাশার কারণ মাদক দ্রব্য কিছু কিছু চক্র আছে যারা তরুণদের টার্গেট করে তাদের দিয়ে মাদক পাচার করিয়ে থাকে। হত্যা, গুম বা সন্ত্রাসের সাথে যারা জড়িত তারা সবাই নিয়মিত মাদক গ্রহণ করে থাকে। আর এই মাদকের প্রভাবে তারা খুন-খারাবি করতে পর্যন্ত দ্বিধাবোধ করে না। তরুণ সমাজ বিভিন্নভাবে এই চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়ছে যা তরুণ সমাজকে অধঃপতনের দিকে ক্রমে ধাবিত করছে। সরকার যদি এখনই প্রয়োজনীয় সক্রিয় পদক্ষেপ না নেয় তাহলে এক সময়ে এই তরুণ সমাজ থেকে আগামীকালের নেতৃত্বদানকারী নেতা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়বে। তাই সরকারের উচিত সময় থাকতে এখনই এই সমস্যার সমাধান করা। মো. কবির অর্থনীতি বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ সরকারি বিএম কলেজ, বরিশাল সদর, বরিশাল তরুণ সমাজের হতাশার মূল কারণ বেকারত্ব সম্প্রতি দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো সর্বদাই রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত। প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলোর দৌরাত্ম্যে ক্যাম্পাস আজ একটা ভীতিকর জায়গা। এতে করে বাড়ছে সেশনজট, বাড়ছে সন্ত্রাস, বাড়ছে বেকারত্ব। দেশের সরকার যদিও নারী উন্নয়নে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে তথাপি এর বাস্তব প্রয়োগ খুব কমই লক্ষ্য করা যায়। সরকার ও দেশের জনগণ এক হয়ে দেশের সমস্যা সমাধানের কোন উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা কারো মধ্যে লক্ষ্য করা যায় না। এসব নানাবিধ কারণে তরুণ সমাজ আজ হতাশাগ্রস্ত। মো. আমানুল্লাহ আমান মাস্টার্স ফাইনাল, বাংলা বিভাগ, কারমাইকেল কলেজ, রংপুর। সঠিক পরিচালনাই পারে সোনার তরুণদের সুপথে নিতে তরুণরা সমাজের শক্ত খুঁটি, তারা দেশকে স্বপ্ন দেখান। সুকান্ত ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘আঠারো বছর বয়স’ কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন ‘যৌবনের গান’ ‘দুরন্ত পথিক’ সেখানে বার বার বলা হয়েছে এই তরুণদের কথা। যাই হোক, তরুণদের পরিচালনা করার জন্য প্রবীণদের ভূমিকা রয়েছে কিন্তু দেখা যায় প্রবীণরাই নবীনদের দেখিয়ে দেয় ভুল পথ। অসুস্থ রাজনীতির পথে সুস্থ তরুণরা প্রবেশ করে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। স্কুল জীবনেই যে রাজনীতি শেখা দরকার তা না শিখে শেখে প্রতিহিংসা। যেখানে অযোগ্য লোক যোগ্য হয়, মামা ও টাকার জোরে আজকে বিসিএস-এর মত উচ্চ পর্যায়ে মাঝে মাঝে দেখতে হয় ঘুষের খেলা। সব মিলিয়ে দেখা যায় তরুণরা আশা হারিয়ে ফেলে। প্রতিভা ডুবে যায় অসুস্থ রাজনীতি, অযোগ্য চাকরি ও দুর্নীতির কাছে। তাই তরুণের জীবনে ফিরিয়ে দিতে হবে আশার আলো। প্রবীণরা সঠিক পথে পরিচালনা করবে। তাহলেই দেশের সোনার তরুণরা আলোর পথ দেখতে সক্ষম হবে। মো. আতিকুর রহমান সোহাগ দ্বাদশ শ্রেণি, বাণিজ্য, কলাগাছিয়া, বামনা, বরগুনা, সারওয়ার জান মডের স্কুল এন্ড কলেজ।