একই সময়ে রফতানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ, বেড়েছে অর্ডার

এক বছরে প্রায় দুইশ’ গার্মেন্টস বন্ধ

রানা প্লাজা ধস পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ক্রেতার অনাগ্রহ ও পরিদর্শন মানে উন্নীত না হওয়ায় গত এক বছরে ১৭৪টি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি কারখানা বন্ধ হয়েছে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের পরিদর্শনের ওপর। ২১টি বন্ধ হয়েছে বিজিএমইএ’র পরিদর্শনে ঝুঁকি বিবেচনায়। বাদবাকি কারখানাগুলো শেয়ারড ভবনে (গার্মেন্টস কারখানার পাশাপাশি অন্য কার্যক্রম চলে এমন ভবন) ও অনুমোদনহীন সাব কন্ট্রাকটিংয়ে কাজ করার কারণে অর্ডার বন্ধ হয়ে য়ায়। এসব কারখানায় প্রায় এক লাখ শ্রমিক কাজ করতো। বন্ধ হওয়া এসব কারখানার অল্প কিছু শ্রমিক বাদে বেশিরভাগই নতুন করে কাজ যোগাড়ে ব্যর্থ হয়েছে। গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। বন্ধ হওয়া এসব কারখানার শ্রমিকদের প্রায়ই রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনের সামনে এসে তাদের পাওনা বুঝে পাওয়ার জন্য দেনদরবার বা বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় সামপ্রতিক সময়ে বিজিএমইএ ভবনের সামনে শ্রমিকদের এই দেনদরবার বা বিক্ষোভের হার বেড়েছে। সূত্র জানায়, বন্ধ হওয়া এসব কারখানার বেশিরভাগই শেয়ারড ভবনে অবস্থিত। ১৭৪টি কারখানার এক তৃতীয়াংশই সাব কন্ট্রাকটিংয়ে কাজ করতো। এর মধ্যে অনেক কারখানায় ক্রেতার অনুমতি ছাড়া কাজ চলতো। এসব ত্রুটি ধরা পড়ার পর ক্রেতা ওই কারখানায় অর্ডার বন্ধ করে দিয়েছে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ক্রেতা এদেশীয় সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীর অনুমতি ছাড়া সাব কন্ট্রাকটিং করায় জরিমানাও আরোপ করেছে। ফলে অর্ডার না পাওয়ায় কিছু কারখানা বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে রানা প্লাজা পরবর্তী সময়ে কারখানা ভবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় অনেক কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। বিজিএমইএ সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি ইত্তেফাককে বলেন, অনেক কারখানায় ভবন ও অগ্নি নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ক্রেতা অর্ডার সরিয়ে নিয়েছে, এটা সত্য। ফলে বাধ্য হয়ে এসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারখানার অর্ডার কমপ্লায়েন্স সম্পন্ন অন্য কারখানায় গেছে বলে তিনি মনে করেন। এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে তিনি বিগত ১০ মাসের রপ্তানির প্রবৃদ্ধি চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত ১০ মাসের গার্মেন্টস রপ্তানি আগের অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাত্ এসব কারখানা বন্ধ হলেও নিশ্চয় অন্য কারখানা অর্ডার পেয়েছে। রানা প্লাজা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের কারখানা ভবন অগ্নি নিরাপত্তা পরীক্ষা করার লক্ষ্যে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের সমন্বয়ে আলাদা দুটি জোট এখন কারখানা ভবন পরিদর্শন করছে। অ্যাকর্ড অন ফায়ার এন্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ ও অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি নামে এ দুটি জোট ইতিমধ্যে প্রায় ১ হাজার কারখানা পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে ২৬টি কারখানা অতি ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই দুটি জোটের উদ্যোগে প্রায় আড়াই হাজার কারখানা পরিদর্শন করা হবে। আশংকা করা হচ্ছে, পরিদর্শনে আরো বেশকিছু কারখানা বন্ধ হওয়ার আশংকা করছে মালিকপক্ষ।