রমজান সামনে রেখে চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের বাজার ঊর্ধ্বমুখী
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৪, ২২:৫৯
রমজান সামনে রেখে ভোজ্যতেলসহ কয়েকটি ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। বাজারে সরবরাহ কমিয়ে ভোজ্যতেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও সয়াবিন তেলের বাজার ক্রমশঃ ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। পাইকারি বিক্রেতারা জানান, বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে গেছে। অনেকেই পণ্যের ঘাটতি দেখিয়ে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজ, রসুনের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। তবে মশুর ডাল, ছোলা, চিনি ও চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
দেশের প্রধান পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে কিছু কিছু ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। কিন্তু এসব পণ্য সরবরাহে কোন ঘাটতি নেই। তবুও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা। খাতুনগঞ্জের জনতা ট্রেডার্সের ম্যানেজার ফিরোজ জানান, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ কেজি ২২/২৩ টাকা, রসুন ৮০ টাকা ও আদা (দেশী) ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ কেজি ২৬ টাকা, রসুন ১২০ টাকা ও আদা ২৩০ টাকা। বাজারে চায়না আদা সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে। আমদানি না হওয়ায় এই আদার সরবরাহ নেই বলে ব্যবসায়ীরা জানান। অন্যদিকে মশুর ডাল কেজি ১১৫ টাকা ও ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকবর ট্রেডার্সের মালিক মো. আলী জানান, চিনির বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। পাইকারি বাজারে প্রতি বস্তা (৩৭ কেজি) ১ হাজার ৪৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে কেজি ৪২/৪৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলা বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ (৪০ কেজি) ১ হাজার ৬৫০ টাকা। পাইকারি ও খুচরা বাজারে ছোলার দাম স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে বাজারে নতুন চাল আসায় মোটা চিকন সকল জাতের চালের বাজার কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
এদিকে সয়াবিন তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরবরাহ গত ১৫ দিন ধরে হঠাত্ কমে গেছে। অনেক কোম্পানী সরবরাহ একেবারে বন্ধ করে দিয়েছে। খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েল দু’টির দাম বেড়েছে। সয়াবিনের সরবরাহ কম। আবার পাম অয়েলের সরবরাহ থাকলেও প্রতিমণে ৪০০ টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার খাতুনগঞ্জে সয়াবিন (খোলা) প্রতিমণ ৩ হাজার ৭০০ টাকা ও পাম অয়েল প্রতিমণ ৩ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়তি থাকায় খুচরা বাজারে সয়াবিন কেজি ১২০ টাকা ও পামঅয়েল ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ বাজারে সয়াবিনের নামে পামঅয়েল বিক্রি করছে খুচরা বিক্রেতারা।
ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক নেয়াজুর রহমান জানান, এবার রমজানে ভোগ্যপণ্যের বাজারে মূল্য বৃদ্ধির কোন আশংকা নেই। দেশের বিভিন্ন গুদামে প্রচুর পণ্য মজুদ রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রচুর ছোলা, মশুর ডাল, খেজুর আমদানি হয়েছে। আরো আসার পথে রয়েছে।
এদিকে রমজানকে সামনে রেখে সরকারিভাবে টিসিবি ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। টিসিবির তথ্য কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, রমজান মাসে ভোগ্যপণ্য চাহিদার দ্বিগুণ মজুদ রয়েছে।