ঝিনাইদহে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, কাল হরতাল
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ও কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৪, ২৩:০২
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চাপালী গ্রামে মঙ্গলবার প্রকাশ্যে ইসমাইল হোসেন (৪৮) নামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কালীগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন একই উপজেলার চাপালী গ্রামের আব্দুর রহমান মান্ডুর ছেলে। এদিকে ইসমাইল হোসেন হত্যার প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপি পুলিশ প্রশাসনকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটামসহ আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে ইসমাইল হোসেন গ্রাম্য শালিসে অংশ নিতে চাপালী গ্রামে যাচ্ছিলেন। তিনি একটি ব্রিজের কাছে পৌঁছলে ওত্ পেতে থাকা সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা হাত-পায়ের রগ কেটে কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করে। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল পৌনে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। লাশ ময়না তদন্তের পর কালীগঞ্জ শহরে পৌঁছলে শত শত বিএনপি নেতাকর্মী ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিল শেষে এক সমাবেশে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঘোষণা করা হয়।
এদিকে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুজ্জামান বেল্টু হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের দায়ী করেছেন। নিহত ইসমাইল হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন অভিযোগ করেন, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী চাপালী গ্রামের লুত্ফর রহমানের ছেলে আওয়ামী লীগ ক্যাডার শাহজাহানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার বাবাকে হত্যা করেছে।
উল্লে¬খ্য ১৯৯০ সালে কালীগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলে বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেন তিনবার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এরমধ্যে তিন বছর তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। মঙ্গলবার তাকে কালীগঞ্জ উপজেলার চাপালী গ্রামের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে শাহজাহান ও তার ২ ভাই আতিয়ার ও আজিদারের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।