নতুন জাত ব্রি ধান-৫৮ কৃষকদের নজর কেড়েছে
প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৪, ২৩:০৭
২০১২ সালে উদ্ভাবিত ধানের নতুন জাত ব্রি ধান-৫৮ চাষাবাদে ব্যাপক সফলতা পাওয়া গেছে। চলতি মৌসুমে সারা দেশেই এ জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। জাতটির উদ্ভাবক বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. তমাল লতা আদিত্যর জন্মভূমি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ঢাকুয়া ইউনিয়নের ভালকী ব্লকের কুন্ডল বালিয়া গ্রামে ১৭ হেক্টর জমিতে এ বছর এ জাতের ধানের আবাদ করে ব্যাপক ফলন পাওয়া গেছে। বিঘা প্রতি ফলন পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ২৮ মণ।
কৃষক, কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ময়মনসিংহ জেলায় ব্রি ধান-৫৮ জাতের ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে। জেলার ৪০ হেক্টর জমিতে এ জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে এ জাতের ধান চাষের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদ্ভাবক নিজেও ব্রি ধান-৫৮ জাতটি নিয়ে বেশ আশাবাদী। বর্তমানে এ জাতটি সারা দেশে সম্প্রসারণ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এ ধানের আবাদকারী চাষি ডা. গনপতি আদিত্যসহ অনেক কৃষক এর উত্পাদন ও গুণাগুণ নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। বহু কৃষক এ ধানের বীজ পেলে চাষাবাদ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন।
ড. তমাল লতা আদিত্য জানান, ব্রি-ধান ২৯ জাত থেকে টিসুকালচারের মাধ্যমে ব্রি ধান-৫৮ উদ্ভাবন করা হয়েছে। ব্রি ধান- ২৯ হচ্ছে ব্রি ধান-৫৮ এর মা। ২০১২ সালে এ জাতটি প্রথম উদ্ভাবন করা হয়। দেরীতে রোপণ করা যায়। চারার বয়স ৬৫ দিন হলেও এটি রোপণ করা যায়। ব্রি ধান- ২৯ এর জীবনকাল ১৬০ দিন। কিন্তু ব্রি ধান-৫৮ এর জীবনকাল ১৫০ দিন। সেচ কম লাগে। সময় কম লাগে। সার কম লাগে। ঝড়-বৃষ্টিতে হেলে পড়ে না। বিঘা প্রতি ফলন ২৪ থেকে ২৮ মণ। এর ভাত ঝড়ঝড়ে, খেতেও সুস্বাদু। এসব সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এ জাতটি উদ্বাবন করা হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ ও করণীয় নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. এস এম আবুল হোসেন বলেন, সময়মত বীজ পেলে আগামীতে এর আবাদ বৃদ্ধির জন্য কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের আরো প্রশিক্ষিত করে তোলা হবে। কৃষক পর্যায়ে প্রদর্শনী ও প্রচারণা চালানো হবে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস জানান, বিজ্ঞানীদের কাজই হচ্ছে নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করা। ব্রি ধান-৫৮ জাতটি বেশ ভাল। এর বীজ সংগ্রহে বিএডিসিকে ও সারাদেশে সম্প্রসারণে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে। সঠিক ফলন পাওয়ার জন্য বিএডিসি ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগকে প্রশিক্ষিত করে তুলতে হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এটি সম্প্রসারণে এগিয়ে আসতে হবে।