নতুন পথের যাত্রায়

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় ‘অল্টারনেটিভ রক’ টাইপের ব্যান্ড ব্ল্যাক। মিউজিকের ভিন্নতা, নিজস্বতা আর গানের কথা ও সুরের মুগ্ধতা দিয়ে সমসাময়িক ব্যান্ডদলগুলোর মধ্যে ব্ল্যাক নিজেকে সবার সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়। সম্প্রতি মিক্সড অ্যালবামের জন্য একটি গান করেছে দলটি। পাশাপাশি চলছে পঞ্চম একক অ্যালবাম নিয়ে ভক্তদের কাছে প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি। সময়ের আলোচিত এই ব্যান্ডটিকে নিয়ে লিখেছেন লিমন আহমেদ ও ছবি তুলেছেন আলমগীর হোসেন স্কুলপড়ুয়া কিছু বন্ধুর স্বপ্নের ফসল ‘ব্ল্যাক’। ১৯৯৮ সালের কথা। জন, টনি ও জাহান রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত উইলস লিটলস ফ্লাওয়ারস স্কুলের ছাত্র। একসাথে হলেই আড্ডা হতো গান নিয়ে। ব্যান্ডের গান ভালোবাসতে ভালোবাসতে স্বপ্ন দেখে ফেললেন নিজেরাই ব্যান্ড দল গড়বেন। হলোও তাই। গড়ে তুললেন একটি ব্যান্ড। যেখানে নিজেরাই নিজেদের শ্রোতা আর বিশ্লেষক। কিন্তু সেটি খুব বেশিদূর এগোয়নি। তারও কিছুদিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে ব্ল্যাক নাম দিয়ে ব্যান্ডসংগীতের আঙ্গিনায় পা রাখলেন এই ত্রিমূর্তি। তিন জনের স্বপ্নে গড়ে ওঠা ব্ল্যাকে ২০০০ সালে যোগ দিলেন মিরাজ এবং তাহসান। আর গেস্ট ভোকালিস্ট হিসেবে গাইতেন এলিটা করিম। সেদিনগুলো ছিল ব্ল্যাকের ক্যারিয়ারে সোনালি অধ্যায়। ব্ল্যাকের প্রথম গান রিলিজ হয় ‘ছাড়পত্র’ শিরোনামের মিক্সড অ্যালবামে। ২০০১ সালে রিলিজ হওয়া এই গানের শিরোনাম ছিলো ‘চেনা দুঃখ’। এই গানটি প্রকাশের পরপরই শ্রোতাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয় ব্ল্যাক। তারপর শুধু সামনে এগিয়ে চলা। ২০০২ সালে তাদের প্রথম সলো অ্যালবাম ‘আমার পৃথিবী’ বাজারে আসে। এই অ্যালবাম ব্ল্যাকের জনপ্রিয়তাকে পরিপূর্ণ করে দেয়। তারপর ২০০৩ সালে বের হয় তাদের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘উত্সবের পর’। এরমাঝে বেশ কিছু মিক্সড অ্যালবামেও কাজ করে ব্ল্যাক। জনপ্রিয়তা আর তারকা খ্যাতি যখন জীবনকে রঙিন প্রজাপতির ডানায় উড়িয়ে দিয়েছে তখনই এক করুণ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয় এই ব্যান্ড। ২০০৫ সালে ডিজুসের একটি কনসার্টে অংশ নিতে চট্টগ্রামে যায় ব্ল্যাক। ২০ এপ্রিল রাতে কনসার্ট শেষে ঢাকায় ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পরে তাদের গাড়ি। এতে ব্যান্ডের বেশ কিছু সদস্য গুরুতরভাবে আহত হয়। আর তারা চিরতরের জন্য হারায় তাদের সাউন্ড ইজ্ঞিনিয়ার ইমরান আহমেদ চৌধুরী মবিনকে। এই দুর্ঘটনায় বেশ কিছুদিন তাদের কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখে ব্ল্যাক। এরমাঝেই তাহসান ব্ল্যাক থেকে সরে গিয়ে নিজেই নতুন দল গড়ে তোলেন। অসুস্থতার কারণে মিরাজও অনিয়মিত হয়ে পড়েন। তবে সব শোক আর বাধা কাটিয়ে আবারও জেগে উঠে ব্ল্যাক। নতুন সদস্য হিসেবে যোগ দেন সাগর। প্রায় ৫ বছর পর ২০০৮ সালে রিলিজ হয় ব্ল্যাকের তৃতীয় অ্যালবাম ‘আবার’। সবশেষে ব্ল্যাক ২০১১ সালে জি-সিরিজের ব্যানারে বাজারে আনে চতুর্থ একক অ্যালবাম ‘ব্ল্যাক’। তারপর... চলছে বিরতি। দীর্ঘ এই তিন বছরে ভেতরে ও বাইরে অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে ব্ল্যাকের। দল ছেড়েছেন ব্ল্যাকের তিন স্বপ্নদ্রষ্টার একজন ভোকালের জন। পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন ব্ল্যাকের অনেক জনপ্রিয় গানের গীতিকার জুবায়ের হোসেন ইমন। তবুও নতুন উদ্যমে, নতুন গন্তব্যে। দলে ভিড়েছেন নতুন ভোকাল আশিফুর রহমান চৌধুরী। সঙ্গে জাহান, টনি ও চার্লসকে নিয়ে চার সদস্যের ব্ল্যাকে চলছে আবারও জ্যামিং আর গান-সুর-তালের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কথায় কথায় ব্যান্ডের অন্যতম সদস্য খাদেমুল জাহান জানালেন সাম্প্রতিক ব্যস্ততার খবর। দিলেন ব্ল্যাক ভক্তদের জন্য সুখবর। আবারও নতুন গান নিয়ে প্রত্যাবর্তন হচ্ছে ব্ল্যাকের। এ মাসেই জি-সিরিজের ব্যানারে প্রকাশ হচ্ছে ‘স্বপ্নচূড়া-৪’ নামের একটি ব্যান্ড মিক্সড অ্যালবাম। এখানে ‘কার জন্য’ শিরোনামে একটি গান থাকছে ব্ল্যাকের। এটাই দলের নতুন ভোকাল আশিফুরের গাওয়া প্রথম কোনো গান যা বাজারে প্রকাশ হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি চলছে পঞ্চম একক অ্যালবামের প্রস্তুতি। এরইমধ্যে ২-৩টি গানের মহড়া হয়ে গেছে। ভালো একটি দিন দেখে কেবল রেকর্ডিংয়ের অপেক্ষা। এদিকে টনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যান্ড মিউজিকের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা নতুন সংগঠন সোসাইটি অব মিউজিক্যাল ব্যান্ডস বাংলাদেশ (এসএমবি)-এর। টনি জানালেন, আগামী ২৪ মে বনানীর সাফরনে আয়োজিত দিনব্যাপী কনসার্টে ৪০টি ব্যান্ডের সমন্বয়ের সংগঠনভুক্ত ২০টি ব্যান্ড অংশগ্রহণ করবে। এর বাইরে ব্ল্যাকের ব্যস্ততা রয়েছে কনসার্টকে ঘিরে। ব্ল্যাকের বর্তমান লাইনআপ খাদেমুল জাহান (গিটার), মেহমুদ আফ্রিদী টনি (ড্রামস), চার্লস ফ্রান্সিস (বেজ) এবং আশিফুর রহমান চৌধুরী (গিটার ও ভোকাল)।