বিএডিসির বীজে পাট চাষিদের সর্বনাশ
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৪, ২১:৫৬
বিএডিসি’র ‘তোষা-৯৮৯৭’ জাতের পাটের বীজ নিয়ে গোদাগাড়ীর কৃষকদের সর্বনাশ হয়েছে। ৫-৭ ইঞ্চি গাছেই ফুল এসেছে।
গতকাল সোমবার উপজেলা কৃষি অফিসার ড. এম সাইফুল আলম জানান, গোদাগাড়ীর মাটিকাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন ফসলি মাঠে এবার কৃষকরা বিএডিসি’র সরবরাহকৃত ‘তোষা-৯৮৯৭’ নামের উন্নতজাতের পাটের চাষ করেছেন। কিন্তু মাত্র ৫-৭ ইঞ্চি লম্বা পাটের গাছে ফুল আসতে শুরু করেছে। গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধিও হয়নি। গোদাগাড়ীর শাকপাল গ্রামের কৃষক বুলবুল আহমেদ (৪০) জানান, স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামের পরামর্শে তিনিই প্রথমে বিদিরপুর বাজারের মেসার্স কবীর ট্রেডার্স নামের বিএডিসি’র বীজ বিক্রেতার নিকট থেকে ‘তোষা-৯৮৯৭’ জাতের পাটের বীজ সংগ্রহ করেন। গত চৈত্রের মাঝামাঝিতে জমিতে সেচ ও সার দিয়ে ওই দিনই পাটের বীজ ছিটিয়ে দেন। কিছু দিনের মধ্যেই জমিতে শতভাগ বীজ অঙ্কুরিত হয়। তা দেখে ওই এলাকার অন্তত তিন শতাধিক কৃষক একই জাতের পাট বীজ কিনে জমিতে ছিটিয়ে দেন। কিন্তু গাছের বৃদ্ধি মাত্র পাঁচ ইঞ্চি হওয়ার পর প্রায় ৬০ শতাংশ গাছে ফুল এসেছে। গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধিও বন্ধ হয়ে গেছে।
কৃষক বুলবুল আহমেদ বলেন, পুরাতন বীজের কারণে ছোট ছোট গাছে ফুল আসে। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। নতুন প্যাকেটে পুরাতন বীজ ভরে বিএডিসি কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক (বীজ বিপণন) আবুল কালাম মুহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, ‘দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান ৫-৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে ও তীব্র খরা হলে ১০-১৫ ভাগ পাটের গাছে ফুল আসা স্বাভাবিক। তবে এরপরেও গাছের বৃদ্ধি স্বাভাবিক থাকার কথা। কিন্তু ৬০ শতাংশ গাছে ফুল কেন আসছে এবং গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি কেন হচ্ছে না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’