বগুড়ায় স্কুল শিক্ষকসহ ৪ অপহরণ নাটক

সারাদেশে যখন অপহরণ আতংকে মানুষ ও প্রশাসন বিচলিত তখন বগুড়ায় এক শ্রেণীর মানুষ নিজের থেকে নিখোঁজ হয়ে অপহরণ নাটক সাজিয়ে আপনজনদের কাছ থেকে ফায়দা লোটার অপচেষ্টায় লিপ্ত হচ্ছে। এমনি ৪টি সাজানো অপহরণ ঘটনা উদঘাটন করেছে বগুড়া পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে বগুড়া পুলিশ অফিসের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ সুপার মোঃ মোজাম্মেল হক জানান, বগুড়ায় এক স্কুল শিক্ষকসহ ৪ জন পৃথকভাবে অপহরণ নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। তারা পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণের টাকাও দাবি করেন। পুলিশি অভিযানে ওই স্কুল শিক্ষকসহ চারজন আটক হয়েছে। আটককৃতরা হলেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মোলামগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বগুড়া শহরের হাকিরমোড়ের বাসিন্দা হায়দার আলী (৪২), শেরপুর উপজেলার বারদুয়ারী পাড়ার ফিরোজ আলীর ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী আব্দুর রহিম (১৬), শহরের সুলতানগঞ্জ পাড়ার তরিকুল ইসলাম আপেল (২৬) ও নিশিন্দারা এলাকার রঙমিস্ত্রি মোকছেদুর রহমান ওরফে রুহুল আমীন (২৮)। এরমধ্যে স্কুল শিক্ষক হায়দার আলী শ্যালকের কাছে জমি বিক্রির নামে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেয়ার পর দলিল না করে দেয়ার উদ্দেশ্যে, আব্দুর রহিম তার প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করে, তরিকুল ইসলাম আপেল তার মা ও স্ত্রীকে পরিবারে পুরুষ সদস্যের প্রয়োজনীয়তা বুঝাতে এবং রুহুল আমীন তার দুই বন্ধুর পরামর্শে বাবার কাছ থেকে টাকা আদায় করতে অপহরণ নাটক সাজিয়েছিলো। বগুড়ার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক স্কুল শিক্ষক হায়দার ও এসএসসি পরীক্ষার্থী আব্দুর রহিমকে মিডিয়ার সামনে হাজির করে এই তথ্য দেন। তিনি বলেন, তারা অপহরণ নাটক সাজিয়ে পরিবারকে যেমন দুর্দশায় ফেলে একই ভাবে পুলিশকেও হয়রানি করে। তাদের মধ্যে স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন। গত ৪ মে বগুড়া শহরের হাকির মোড় বাসা থেকে স্কুল শিক্ষক হায়দার আলী, ৬ মে শহরের সাতমাথা থেকে রং মিস্ত্রি মকছেদুর রহমান ওরফে রুহুল আমিন এবং ১৬ এপ্রিল শহরের সুলতানগঞ্জ এলাকা থেকে তরিকুল ইসলাম ওরফে আপেল এবং ৩০ মার্চ শেরপুর উপজেলার বারদুয়ারী পাড়া এলাকা থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী আব্দুর রহিম (১৬) নিখোঁজ হয়। তারা অপহরণের ঘটনা সাজিয়ে তাদের স্বজনদের থেকে মোবাইল ফোনে টাকা দাবি করে আসছিল। পুলিশ মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ঐ ৪ জনকে ঢাকা, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ ও বগুড়ায় আত্মগোপন থেকে আটক করে।