নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে চাঁদার রেট হতো দ্বিগুণ

নূর হোসেন ও তার সহযোগীদের চাঁদাবাজির কারণে অনেক ব্যবসায়ী সিদ্ধিরগঞ্জ এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছিল। এর আগে ব্যবসায়ীরা চাঁদার জন্য হুমকি পেয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে নূর হোসেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। এর ফল হয়েছে উল্টো। ক্যাডার বাহিনী চাঁদার রেট দ্বিগুণ করে দেয়। অর্থাত্ আগে যে অংক দাবি করেছে, পুলিশের কাছে যাওয়ায় তা দ্বিগুণ করে। এমনও হয়েছে, অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের অস্ত্র দেখিয়ে বলতেন ব্যবসা করলে ওদের মন জয় করে চলেন। নইলে নেই হয়ে যাবেন। কোন প্রতিকার না পেয়ে শেষে ব্যবসায়ীরা মানবাধিকার কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছিলেন। নূর হোসেন বাহিনীর অত্যাচারে জর্জরিত ব্যবসায়ীরা ইত্তেফাককে এসব ঘটনা জানান। এক ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যবসায়ী বলেন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সুপারিশ নিয়ে থানায় গিয়েছিলাম সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিকারের আশায়। নারায়ণগঞ্জ থানার এক কর্মকর্তা জানান, এসব ব্যবসা নারায়ণগঞ্জে করে লাভ নেই। এখানে ব্যবসা করতে হলে ওদের সাথে (সন্ত্রাসীদের সঙ্গে) হাত মিলিয়ে থাকতে হবে। সন্ত্রাসীরা হলো পুলিশের বড় ভাই। মোটা অংকের টাকা প্রতিদিন উেকাচ পেত ওইসব পুলিশ কর্মকর্তা। ওই ব্যবসায়ী বলেন, শেষে তিনি ব্যবসা ফেলে নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন। ওই ব্যবসা দখল করে নেয় সন্ত্রাসীরা। জানা গেছে, বিভিন্ন মাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহায়তায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীরা আপোস করতে চেয়েছিলেন। সন্ত্রাসীরা জানিয়ে দেয় যে, ব্যবসায়ীরা পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করায় এখন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। আগে যেখানে দিতে হত এক লাখ। পুলিশকে বলায় এখন প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। এ প্রস্তাবে রাজি থাকলে তারা (সন্ত্রাসীরা) বৈঠকে বসতে রাজি বলে স্থানীয় এক নেতাকে জানিয়ে দেয়। সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্য আরেক ওয়ার্ডের এক কাউন্সিলর। তিনি নূর হোসেন জলসাগর নামক প্রমোদ সেন্টারে প্রতি রাতে মদ সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকতেন। তিনি নূর হোসেনের ডান হাত হিসেবেও এলাকায় পরিচিত। এদিকে নজরুলসহ সাত হত্যাকাণ্ডের পরেও হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নূর হোসেনের ক্যাডার বাহিনীদের দখল, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ অপকর্ম বিরতিহীনভাবে চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ভাবছিলেন যে, সাতটি হত্যাকাণ্ডের পর নূর হোসেন ও তার ক্যাডার বাহিনী এবং তার সহযোগী কতিপয় কাউন্সিলর শান্ত থাকবে। কিন্তু তা হয়নি বরং তারা চাঁদার রেট দ্বিগুণ করেছে। সন্ত্রাসীরা এখন এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ওই ক্যাবল ব্যবসায়ী এখন তার ব্যবসা ফিরে পেতে চেষ্টা করছেন। কিন্তু কাজে নেমে দেখেন নূর হোসেনের বাহিনীকে এখনও সহযোগিতা করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, নজরুলসহ সাত হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নূর হোসেনসহ জড়িত এবং তার ক্যাডার বাহিনী সদস্যদের গ্রেফতারে তত্পরতা অব্যাহত আছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনে তার কাছে আবেদন করলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি জানান।