সাংবিধানিক রাষ্ট্রে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মেনে নেয়া যায় না :ড. কামাল

সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ধারাবাহিকভাবে ঘটছে। এই ধরনের জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের আগেই ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার ছিলো; কিন্তু আমরা তা পারিনি। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত রাষ্ট্রে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। নারায়ণগঞ্জে আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাত খুনের ঘটনার প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী সমাজ আয়োজিত সভায় সভাপতির ভাষণে ড. কামাল এসব কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়। এতে দেশের শীর্ষ আইনজীবীরা বক্তব্য রাখেন। ড. কামাল বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আইন মেনে চলুক এটা সবাই প্রত্যাশা করে। কোন জায়গা থেকে আদিষ্ট হয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংবিধান লংঘন করবে তা মেনে নেয়া যায় না। এটা করা হলে দেশে আইনের শাসনের অপমৃত্যু হবে। তিনি বলেন, ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন দিয়ে জনগণের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়। এজন্য আইনকে যুগোপযোগী ও সংবিধান মেনে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। কোন ধরনের বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয়া রাষ্ট্রের ঠিক হবে না। সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, র্যাবকে মানুষ হত্যার ও টর্চার সেলের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। র্যাব ‘লাইসেন্স টু কিলিং ইন্ডাস্ট্রি’ করেছে। এই ‘কিলিং ইন্ডাস্ট্রি অবিলম্বে বন্ধ’ করতে হবে। সংবিধান ও আইনের মাধ্যমে নাগরিকের জন্য সংরক্ষিত সকল অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির লড়াইয়ে নামতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জের এ হত্যাকাণ্ড কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আতঙ্কের রাজনীতির ধারাবাহিকতায় এই হত্যাকাণ্ড। এ ধরনের ঘটনার বিচারের দাবিতে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ দেশে গণতন্ত্র না থাকলে আইনের শাসন থাকতে পারে না। তাই একটি নির্বাচিত, গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের জন্য আমাদের সকলকে দল-মত নির্বিশেষে কাজ করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ বলেন, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনাকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যাবে না। এ ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাহলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কেউ মেনে নিতে পারে না। এধরনের ঘটনায় মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে আমরা এ ধরনের ঘটনার অবসান চাই। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- অ্যাডভোকেট এ বি এম নূরুল ইসলাম, সাবেক এটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার রাবেয়া ভুঁইয়া, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ নামক সংগঠনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান ইসমাইল প্রমুখ।