তুরস্কে খনি বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ

মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৪ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে এরদোয়ানকে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘিরে ধরে তুরস্কে কয়লা খনি দুর্ঘটনায় হতাহতের ফলে বুধবার ব্যাপক ক্ষোভের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ধর্মঘট পালনের ডাক দেয় দেশটির শ্রমিক সংগঠনগুলো। এর আগে প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান খনি এলাকা পরিদর্শনে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে ঘিরে ধরার চেষ্টা করে। এদিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৪ জনে। এছাড়া বেশ কিছু মানুষ এখনো খনির ভেতরে আটকা পড়ে আছে। দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তুরস্কে বাড়ছে মানুষের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ। দুর্ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাজধানী আঙ্কারা এবং ইস্তাম্বুল শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। সরকার কয়লাখনি শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে অবহেলা করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিক্ষোভকারীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার একদিনের ধর্মঘট পালনের ডাক দেয় দেশটির শ্রমিক সংগঠনগুলো। কনফেডারেশন অব রেভোল্যুশনারি ট্রেড ইউনিয়নের প্রধান আরজু সেরকেজোগলু বুধবার সাংবাদিকদের জানান, বেশ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন ধর্মঘটের ব্যাপারে একমত হয়েছে। আরজু সেরকেজোগলু জনগণকে কালো পোশাক পরে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ করারও আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির আরেকটি শ্রমিক সংগঠন পাবলিক ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন কনফেডারেশন এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, দুর্ঘটনাকবলিত কয়লা খনিটিকে বেসরকারিকরণ করায় কাজের পরিবেশ আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল বলে। তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি বলেছে, খনির নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাদের উদ্বেগ সরকার অগ্রাহ্য করেছে। ফলে মঙ্গলবারের দুর্ঘটনার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান খনি এলাকা পরিদর্শন করতে গেলে তাকে ঘিরে ফেলে বিক্ষুব্ধ জনতা । বিক্ষোভকারীরা তার গাড়িতে লাথি মারতে থাকে এবং তার পদত্যাগের দাবি জানায়। জনতার ক্ষোভের হাত থেকে বাঁচতে এরদোয়ান একটি দোকানে আশ্রয় নেন। এসময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। তুরস্কের মানিসা প্রদেশের সোমা শহরে মঙ্গলবার এই খনিতে যখন বিস্ফোরণ ঘটে তখন ভেতরে ৭৮৭ জন শ্রমিক কাজ করছিল। খনির প্রায় দু’কিলোমিটার গভীরে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে বায়ু নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ায় শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।