শাখা ব্যবস্থাপকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে দুদকের চার্জশিট
প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৪, ২২:৪৭
প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রাইম ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকসহ নয় জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার ঢাকার দায়রা জজ আদালতে উপ-সহকারী পরিচালক মো. মোজাম্মেল হোসেন হাওলাদার এই চার্জশিট দাখিল করেন। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১২ অক্টোবর রাজধানীর আদাবর (ডিএমপি) থানায় ব্যাংকটির ব্যবস্থাপক মো. গিয়াস উদ্দিন বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার দুদকে দেওয়া হয়।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন-প্রাইম ব্যাংকের রিং রোড শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক (অপারেশন) গোলাম মোস্তফা, বরখাস্তকৃত একই শাখার সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজার জাহানারা বেগম, সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম খান, আল-আমিন স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. নুরুল আমিন, মেসার্স আরাফাত ট্রেডার্স নামক ভুয়া প্রতিষ্ঠানের স্বত্ব্বাধিকারী আরাফাত আলী খান, মেসার্স তামান্না ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্ব্বাধিকারী আব্দুল হাই ও তার স্ত্রী রওশন আরা হাই, মো. শহিদুল ইসলাম এবং মো. হাবিবুর রহমান।
দুদক সূত্র জানায়, আসামি গোলাম মোস্তফা প্রাইম ব্যাংকের রিং রোড শাখার ব্যবস্থাপক থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাভবান হবার উদ্দেশ্যে তার আত্মীয়দের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ ঋণ দেন। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো প্রকার জামানত ছাড়া এবং কখনো ভুয়া জামানতে ঋণ প্রদান করেন। এই ঋণপত্রগুলো ম্যানেজার জাহানারা বেগমকে দিয়ে অনুমোদন করে নেন। জাহানারা বেগম নিজেও অসত্ উপায়ে লাভবান হবার উদ্দেশ্যে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই এসব বিধি বহির্ভূত ঋণপত্রে স্বাক্ষর করেন। এসবের মধ্যে- যথাযথ রেকর্ডপত্র ছাড়াই ভুয়া প্রতিষ্ঠান আরাফাত আলী ট্রেডার্সকে দুই কিস্তিতে ৪০ লাখ, জামানত এবং ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই তিনটি ভুয়া এলসির বিপরীতে মেসার্স তামান্না ট্রেডার্সকে ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার, ঋণ মঞ্জুরিপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে এবং একটি ভুয়া এফডিআর বন্ধক দেখিয়ে আল-আমিন স্টোরকে ৬০ লাখ, ওই ব্যবস্থাপক নিজের কথা বলে ২৫ লাখ এবং দুটি ভুয়া এফডিআর বন্ধক দেখিয়ে ১১ লাখ ৬২ হাজার ৪৪৫ টাকা উত্তোলন করেন। এভাবে তারা ব্যাংক হতে এবং গ্রাহকদের নামীয় ঋণ হিসাব হতে সর্বমোট ১ কোটি ৮৬ লাখ ৯ হাজার ৪৪৫ টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাত্ করেন। আর এসব তথ্য দুদকের তদন্তে বেরিয়ে আসে।