পাঁচ কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ অধিকাংশই ত্রুটিপূর্ণ
প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৪, ২৩:২৩
বিগত কয়েক মাসে ৫০৮টি গার্মেন্ট কারখানার নিরাপত্তা মান পরিদর্শন শেষে বন্ধ করে দেয়ার মত মাত্র ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা চিহ্নিত করেছে উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের পরিদর্শন জোট ‘অ্যালায়েন্স’। এর মধ্যে একটি কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একটি কারখানার শ্রমিকদের অন্য কারখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি কারখানাগুলো পর্যালোচনা কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে পরিদর্শন করা কারখানার বেশিরভাগেই অগ্নি ও ভবনের কাঠামোগত ছোট-বড় ত্রুটি পাওয়া গেছে। এসব ত্রুটি সংশোধনে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে নিজস্ব কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আমেরিকাভিত্তিক কারখানা পরিদর্শন জোট ‘অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি’র পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে । এ সময় ‘অ্যালায়েন্সে’র উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন যাদের বেশিরভাগই শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি। ২৬টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত এই জোট তাদের অর্ডার সরবরাহ করে এমন ৬২৬টি কারখানার নিরাপত্তা মান পরীক্ষা করছে।
‘অ্যালায়েন্সে’র বাংলাদেশ অফিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম রবিন বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থেই কেবল ঝঁকিপূর্ণ কারখানা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ মাসের মজুরির অর্ধেক দিচ্ছে অ্যালায়েন্স। ইতিমধ্যে বন্ধ হওয়া একটি কারখানায় তা দেয়া হয়েছে। তবে পরিদর্শনে কারখানা বন্ধ হলে ক্ষতিপূরণে মালিকপক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী মালিকেরই ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা। এটি না মানা হলে তা দেখার দায়িত্ব সরকারের।
১৭ কারখানা বন্ধ করেছে ‘অ্যাকর্ড’!
এদিকে অ্যালায়েন্সের পাশাপাশি ইউরোপের ক্রেতাদের জোট ‘অ্যাকর্ড’ (অ্যাকর্ড অন ফায়ার এন্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ) প্রায় সোয়া ৫শ’ কারখানা পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে। বিজিএমইএ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ওই পরিদর্শনে অন্তত ১৭টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। বন্ধ হওয়া ওইসব কারখানার শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ কে দেবে তার সুরাহা এখনো হয়নি। এছাড়া বিজিএমইএ বলছে, অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনে এ পর্যন্ত ৩টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১১ হাজার শ্রমিক কর্মচ্যুত হয়েছে। এ জন্য মালিক পক্ষ এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অ্যাকর্ডকে অভিযুক্ত করছেন।
গতকাল অ্যালায়েন্সের সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, নিরাপত্তার নামে ঢালাওভাবে কারখানা বন্ধ করে দেয়া আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এভাবে চলতে থাকলে শ্রমিকরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অবশ্য ত্রুটিমুক্ত কোন কারখানাকে ত্রুটিপূর্ণ বানিয়ে বন্ধ করা হয়েছে কি না, এমন কোন তথ্য-প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।
সাংবাদিক সম্মেলনে এম রবিন আরো জানান, বর্তমানে যেসব ভবন পরিদর্শন করা হচ্ছে তার ৭৪ শতাংশই বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) নীতিমালা তৈরির পূর্বের। পরিদর্শন করা এসব ভবনের প্রায় সবগুলোতেই কাঠামোগত এবং বৈদ্যুতিক ও অগ্নি নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি ধরা পড়ছে। তবে এসব ত্রুটি সমাধানের জন্য ওইসব কারখানা মালিকদের সময় দেয়া হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে অ্যালায়েন্সের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইয়ান স্পলডিং বলেন, কিছু কারখানা শ্রমিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভালো অগ্রগতি করেছে। তবে সার্বিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে সময় লাগবে, অর্থও লাগবে। যেখানে অগ্রগতি হয়নি সেখানে সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তবে শ্রমিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে অ্যালায়েন্সের সদস্যভুক্ত কোম্পানি কোন ছাড় দেবে না। সাংবাদিক সম্মেলনে এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা ওয়াজেদ-উল ইসলাম খান, দেলোয়ার হোসেন খান, নাইমুল আহসান জুয়েল প্রমুখ।