শক্তি প্রয়োগের হুমকি থাই সেনাপ্রধানের
প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৪, ২৩:২৪
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের উপর গ্রেনেড ও বন্দুক হামলায় ৩ বিক্ষোভকারী নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ব্যাংককের ডেমোক্রেসি মনুমেন্টে এ হামলা চালানো হয়। হামলার সময় বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এই হামলার পর দেশটিতে আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এজাতীয় হামলা চলতে থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁমকি দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান। খবর বিবিসি ও এএফপির।
সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার পরিবর্তে নিয়োগকৃত একটি প্রশাসনের হাতে সরকারি ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য দেশটির সিনেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল বিক্ষোভকারীরা। থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালতের নির্দেশে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা ক্ষমতা ছাড়ার পর তার দলের মন্ত্রীসভা অন্তর্বর্তী দায়িত্ব হিসেবে সরকার পরিচালনা করছে। কিন্তু এটি মেনে নেয়নি বিরোধীদল সমর্থিত বিক্ষোভকারীরা। গত নভেম্বরে ইংলাক সরকার বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে। গত সপ্তাহে দেশটির সাংবিধানিক আদালতের এক রায়ে প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে পদচ্যুত করার পর কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক গোলযোগ লেগে থাকা এ দেশটিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
গতকালের হামলায় তিন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন জুলাইতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন সাময়িক স্থগিত করেছে। ইংলাকের সমর্থক ‘লাল শাট’ গোষ্ঠী অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করলে দেশে গৃহযুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে। গতকাল হামলার ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর বিক্ষোভকারীরা সরকার ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে চড়াও হয়। এতে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিওয়াত্তম্রং বুনসংপাইসান ও অন্য মন্ত্রীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে বৈঠক শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের মহাসচিব পুবং নুত্রাওয়ং এএফপিকে বলেন, ২০ জুলাইয়ে আর নির্বাচন করা সম্ভব নয়। ’ তিনি বলেন, আগস্টের শুরুতে নির্বাচনের একটি বিকল্প তারিখ ঠিক করা হতে পারে। বিক্ষোভকারীরা রাজি না হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারবে না।’
সেনা প্রধানের হুমকি: থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী প্রধান বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত থাকলে সামরিক বাহিনী ‘শক্তি প্রয়োগ করতে পারে’। সেনাপ্রধান জেনারেল প্রায়ুত চান-ও-চা এক বিরল দাপ্তরিক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি সকল গ্রুপকে বিশেষ করে যারা সহিংসতার আশ্রয় নেয় এবং নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকের ওপর যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে তাদের এখনই ক্ষান্ত হতে সতর্ক করে দিতে চাই। সহিংসতা অব্যাহত থাকলে হয়তো সামরিক বাহিনীকে শান্তি-শৃংখলা ফেরাতে হয়তো বের হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।’
তিনি বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে তার সৈন্যদের ‘শক্তি প্রয়োগ করতে হতে পারে’। বেসামরিক নাগরিকরা আঘাত পেলে তিনি ‘সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন। উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী ১৯৩২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৮টি সফল ও অসফল অভ্যুত্থান পরিচালিত করেছে। সরকার সমর্থকরা রাজনৈতিক সংকট তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনী আবারো অভ্যুত্থান ঘটাতে পারে। সরকার সমর্থক রেড শার্ট গ্রুপ সামরিক অভ্যুত্থান আসন্ন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। অপরদিকে সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীরা বারংবার সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপের আহবান জানিয়েছে।