রাডার ক্রয়ে দুর্নীতি মামলা

শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন এরশাদ

বিমানের রাডার ক্রয়ে দুর্নীতির মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আসামি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ আত্মপক্ষ সমর্থনে শুনানিতে অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। এরশাদসহ অন্য ২ আসামি বিমান বাহিনীর সাবেক সহকারী প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও সুলতান মাহমুদ গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মপক্ষ শুনানিতে হাজির হন। মামলার অন্য আসামি ইউনাইটেড ট্রের্ডাস লিমিটেডের পরিচালক একেএম মুসা আগে থেকেই পলাতক রয়েছেন। ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবদুর রশীদ প্রথমে আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষীদের দেয়া সাক্ষ্য সংক্ষিপ্ত আকারে পড়ে শোনান। এরপর এরশাদকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি দোষী না নির্দোষ। জবাবে এরশাদ বলেন ‘আমি নির্দোষ, আমি আদালতের কাছে ন্যায় বিচার চাই।’ এরপর তিনি একটি লিখিত বক্তব্য আদালতে দাখিল করেন। আদালত তাকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনার বক্তব্যের সমর্থনে কোনো কাগজপত্র দাখিল করবেন কিনা কিংবা সাফাই সাক্ষী দেবেন? জবাবে কোনো কাগজপত্র কিংবা সাফাই সাক্ষী দেবেন না বলে আদালতে জানান এরশাদ। একইভাবে বিমান বাহিনীর সাবেক সহকারী প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং সুলতান মাহমুদকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেন আদালত। তারাও নিজেদের নির্দোষ দাবি করে কোনো কাগজপত্র ও সাফাই সাক্ষী দিবেন না বলে আদালতকে জানান। বিচারক আসামিদের বক্তব্য শুনে যুক্তি-তর্কের জন্য আগামী ২৯ মে দিন ধার্য করেন। উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ এ মামলার অন্য আসামি বিমান বাহিনীর তত্কালীন প্রধান সুলতান মাহমুদের পক্ষে জেরা করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ চলাকালে অভিযোগপত্রভুক্ত মোট ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ১৯৯৫ সালের ১২ আগস্ট এরশাদসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আদেশে স্থগিত ছিল। সাক্ষ্য গ্রহণের কোন বাধা না থাকলেও ২০০৯ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলার বাদী আলী হায়দারকে আদালতে হাজির করেনি। ১৯৯২ সালের ৪ মে তত্কালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো মামলাটি দায়েরের পর ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।