বগুড়ায় ধানের বাজার চড়া কৃষকের মুখে হাসি

চলতি মৌসুমে বগুড়ায় বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। সেই সাথে ধান কাটা-মাড়াইয়ের শুরু থেকেই হাট-বাজারে ধানের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় কৃষকদের মাঝে উত্সবের আমেজ বিরাজ করছে। কৃষকরা বলছেন, গত কয়েক বছর বাম্পার ফলন হলেও এবার ফলন আরও বেশি ভালো হয়েছে। আর বাজারে ধানের দামও আশানুরূপ হওয়ায় এবার লাভের মুখ দেখবেন তারা। অধিক ধান উত্পাদনকারী এলাকা বগুড়ার কাহালু, শাজাহানপুর, দুপচাঁচিয়া, নন্দীগ্রাম, আদমদীঘিসহ জেলার সর্বত্রই এখন ধান কাটা-মাড়াই চলছে পুরোদমে। মাঠের পর মাঠ সোনালী শীষ দোল খাচ্ছে। প্রচণ্ড রোদে ধান ক্ষেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে কাটা-মাড়াইয়ের পর পরই বাজারে উঠছে। দামও মিলছে ভাল। রোদে পুড়ে ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। কৃষি শ্রমিকের সংকট কারণে মজুরি বৃদ্ধি পেলেও এবার কোন আক্ষেপ নেই। সব খরচ মিটিয়েও লাভের মুখ দেখছে কৃষক । জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে এ জেলায় বোরো ধান আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২০ হেক্টর বেশি। আর ধান উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৭ মেট্রিক টন । এই পরিমাণ ধান থেকে চাল উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৬৯৮ মেট্রিক টন। তবে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় চাল উত্পাদন বাড়বে। এবার হেক্টর প্রতি ৪.৫ মেট্রিক টন চাল উত্পাদন হবে বলে আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। জেলার হাট-বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ ধান ৭৪০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত দরে বেচাকেনা হচ্ছে। শাজাহানপুর উপজেলার শাহনগর এলাকার কৃষক আমিনুর ইসলাম, নন্দীগ্রামের কৃষক মোমিন, ফজলু,আরমান জানান, উত্পাদন ও কাটা-মাড়াই এর খরচ বাদ দিয়েও এবার কৃষকের বিঘাপ্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় থাকছে। বিঘাপ্রতি ধান হয়েছে ২২ থেকে ২৫ মণ । আর খরচ ১৩ থেকে ১৫ হাজার । স্থানীয় রণবাঘা বাজারের আড়তদার আল-আমিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সামসুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন হাজার হাজার টন ধান আসছে। চালকল মালিকরা আগাম টাকা দিয়ে ধান ক্রয় করছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এসে শত শত ট্রাক ধান ক্রয় করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বগুড়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক এএইচ বজলুর রশিদ ইত্তেফাককে জানান, চলতি বোরো মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকরা সময়মত সেচ সুবিধাসহ নন ইউরিয়া সার ও পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করায় এমন ভাল উত্পাদন হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলার মোট বোরো আবাদের শতকরা ৩৫ ভাগ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ধান আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে কাটা সম্পন্ন হবে বলে তিনি জানান।