ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু

দ্বৈত ভোটার হওয়ার সুযোগ নেই :সিইসি

তিনটি ধাপে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকার হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যাদের বয়স ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি ১৮ বছর পূর্ণ হবে তারাই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসময় সিইসি বলেন, কোনভাবেই দ্বৈত ভোটার হওয়ার সুযোগ নেই। কেউ জালিয়াতি করে ভোটার হলে ২ হাজার টাকা জরিমানা অথবা ৬ মাসের জেল দেয়া হবে। সঠিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পূর্বশর্ত। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মোখলেসুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জিল্ল¬ার রহমান, এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয় এমপি, মানিকগঞ্জ ডিসি মোঃ মাসুদ করিম, এসপি বিধান ত্রিপুরা প্রমুখ। নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহ নেওয়াজ, শিবালয় উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আকবর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম গালিভ খাঁন, জেলা নির্বাচন মোঃ মুনির হোসেন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এসময় সিইসি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সঠিক ও নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের জন্য আমাদের মেয়াদে দ্বিতীয়বারের মত হালনাগাদ কাজ শুরু করেছি। ২০০৭ সালের অপারেশন নবযাত্রার মাধ্যমে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে ছবিসহ ভোটার তালিকা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে যাচ্ছি। গত ২৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনের সভায় তিন ধাপে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই মোতাবেক প্রথম ধাপে ১৮১ উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদে তথ্য সংগ্রহ চলবে আগামী ২৪ মে পর্যন্ত। ২৬ মে থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত নিবন্ধন কেন্দ্রে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ২১৯ উপজেলায় ১৫ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ, আর ১৮ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। শেষ ধাপে ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১৩ উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে। নিবন্ধন করা হবে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। সারাদেশে এবার ৪৬ লাখ নতুন ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার টার্গেট করা হয়েছে। শতকরা ৫ ভাগ বৃদ্ধি হিসাব করে এই টার্গেট নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা। প্রতি ধাপে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার জন ভোটারকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সম্ভাব্য নিবন্ধন কেন্দ্র ৫ হাজার ৪০০টি। প্রতিটি ইউনিয়ন/ক্যান্টমমেন্ট বোর্ডে একটি, প্রতি পৌরসভায় ২টি এবং সিটি করপোরেশনের প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে নিবন্ধন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সারাদেশের মোট ১১টি সিটি কর্পোরেশনের ৪৩৯টি ওয়ার্ড, ১২টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, ৩১৩টি পৌরসভা, ৪ হাজার ৫৮৩টি ইউনিয়নে নিবন্ধন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। তথ্যসংগ্রহকারী ৪৮ হাজার ৩০০ এবং সুপারভাইজার থাকছেন ৯ হাজার ৬৬০ জন। প্রথমে উপকূল ও হাওড় অঞ্চলের উপজেলা, পরে মফস্বল পর্যায়ের উপজেলাগুলোতে এবং সবশেষে সিটি কর্পোরেশনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম চলবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা।