পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃষকের আগ্রহ আম্রপালী চাষে

চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে উন্নতজাতের আম আম্রপালী চাষ করে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছেন স্থানীয় আম চাষীরা। আম্রপালী আম সম্পর্কে আমাদের আলাপ হয় কৃষি কর্মকর্তা এবং বিশেষজ্ঞ সাবজাল উদ্দীনের সাথে। তিনি জানান, আম্রপালী ভারতীয় জাতের আম। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট বারী আম-৩ জাত হিসাবে আম্রপালীকে অবমুক্ত করে। প্রথম পর্যায়ে এই আমের জাতের চারার সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশ সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত থেকে ৯৬ সালের দিকে সর্বপ্রথম এই আম্রপালী আমের চারা আমদানি করে এবং কৃষক পর্যায়ে বিনামূল্যে বিতরণ করে। আম্রপালী আমের চাষ চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপক চাষাবাদ করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলগুলোর মধ্যে বান্দরবান, লামা, খাগড়াছড়ি, রামগড়, রাঙ্গামাটি, কাপ্তাই, চন্দ্রঘোনা এলাকায় বেসরকারি উদ্যোগে আম্রপালী আমের চাষ করা হচ্ছে। বর্তমানে পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে খামারের মালিকেরা ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিকভিত্তিতে আম্রপালী আমের চাষ করেছেন। চট্টগ্রামের পাবর্ত্য অঞ্চলগুলোতে প্রায় দুই হাজার খামারের আম্রপালী আমের চাষ করা হচ্ছে। মার্চ-এপ্রিল মাসের দিকে আমের মুকুল আসে এবং জুন-জুলাই মাসের দিকে ফলন পাওয়া যায়। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে চারা রোপণের তিন বছরের মধ্যে গাছে ফলন আসতে শুরু করে। প্রথম পর্যায়ে গাছ ছোট থাকায় গড়ে গাছ প্রতি পাঁচ থেকে ছয় কেজি আম উত্পন্ন হয়। পর্যায়ক্রমে গাছের বর্ধনের পর গাছ প্রতি ৫০ থেকে ৬০ কেজি আম উত্পন্ন হয়। আম্রপালী আম উত্পাদনের জন্য চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলের মাটি এবং আবহাওয়া খুবই উপযোগী। আম্রপালী আম চাষ করে এখানকার আম চাষীরা লাভের মুখ দেখায় এখন আম্রপালী আমের চাষের ব্যাপারে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন। ইতিমধ্যেই আম্রপালী আম পার্বত্য চট্টগ্রামের বেশ সাড়া জাগিয়েছে। পাহাড়ে আম্রপালী আম চাষের ব্যাপারে অনেকেই আগ্রহী হলেও পাহাড়ের দরিদ্র জনসাধারণ আর্থিক সমস্যার কারণ তারা এগিয়ে আসতে পারছেন না। কারণ প্রতি প্রকার জমিতে আম্রপালী আম চাষ করতে তিন বছর ত্রিশ হাজার টাকার প্রয়োজন হয়। কিন্তু গরীব কৃষকদের কাছে টাকা না থাকায় তাদের আগ্রহ কোন কাজে আসছে না। চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে প্রতি আমের মৌসুমে ১৫-২০ হাজার টন আম্রপালী আম উত্পন্ন হচ্ছে। বর্তমানে আম্রপালী আম-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। বাংলাদেশের এক দশমাংশ হচ্ছে পার্বত্য অঞ্চল। এই পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপকভিত্তিতে আম্রপালী আমের চাষ করলে দেশের আমের সঙ্কট দূর থেকে এবং বিদেশে আম রপ্তানি করা সম্ভব হবে। বর্তমানে পার্বত্য অঞ্চলে যে পরিমাণ আম্রপালী আম উত্পন্ন হচ্ছে তা পরিবহন এবং সংরক্ষণের সঙ্কটের কারণে অনেক সময় আম পচে নষ্ট হয়ে যায়। পাহাড়ী অঞ্চলে বিদ্যুত্ না থাকায় আম প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া আম গাছের নিয়মিতভাবে পানি দিতে গিয়ে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। এসব এলাকায় জরুরিভিত্তিতে আম প্রক্রিয়াজাতকরণ অথবা সংরক্ষণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।