জঙ্গিদের হাত থেকে পালিয়ে আসলো ওরা
প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৪, ২১:৩৫
ভাগ্যবানদের মধ্যে একজন হলেও তারা কেউই খুব বেশি হাসছে না, তাদের মুখে লেগে আছে একটুকরো বিষণ্ন হাসি। জঙ্গিরা তাদের স্কুলে এসে ‘আল্লাহ মহান’ বলে চিত্কার দিয়ে ‘আমরা বোকো হারাম’ ঘোষণা দিয়েছিল। তারা রাইফেল থেকে গুলি ছুঁড়ে এবং সেখানে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের হত্যার হুমকি দেয়।
আঠারো বছর বয়সী ছাত্রী কুমা ইশাকু সে ঘটনার কথা স্মরণ করে তারা বলেছিল: ‘যদি তোমরা মরতে চাও, এখানে বসে থাকো। আমরা তোমাদের হত্যা করবো। আর তোমরা যদি মরতে না চাও, তাহলে ট্রাকে উঠো।’ ভীত এবং কান্নারত মেয়েগুলোকে ট্রাকে উঠানো হয়। একটি জঙ্গলের মধ্যদিয়ে যাওয়ার সময় বেশ কয়েকজন মেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক থেকে লাফ দেয়। এছাড়া, জঙ্গিদের একটি ক্যাম্প থেকে অপহরণকারীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আরো কিছু মেয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। কিছু অপরিচিত লোক তাদের খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত একটি আধা-মরুভূমি অঞ্চলে তারা নিরুদ্দেশভাবে হাঁটছিল।
গত ১৪ এপ্রিল বোর্নো প্রদেশের চিবক শহরে অপহূত ইশাকুসহ ৫৩টি মেয়ে এভাবে ফিরে আসলেও অপহরণের শিকার ২৬০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে। ফিরে আসা এমন ছয়জন মেয়ে গত সপ্তাহে নাইজেরিয়ার মাইদুগিরিতে এসেছিল বোকো হারামের পাঠানো ভিডিওবার্তা থেকে সহপাঠীদের শনাক্ত করতে। এ প্রসঙ্গে ১৭ বছর বয়সী গোদিয়া সিমন বলে, ‘যখনই আমরা তাদেরকে ভিডিওতে দেখলাম, আমরা কাঁদতে শুরু করলাম।’
এদিকে নাইজেরিয়ার অপহূত স্কুলছাত্রীদের বিনিময়ে কারাগারে থাকা বোকো হারামের সদস্যদের মুক্তি দেওয়ার শর্ত নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথন। তবে ইসলামপন্থি সশস্ত্র সংগঠনটির সঙ্গে নাইজেরিয়া সরকার বিস্তারিত আলোচনা করতে চায় বলে জানিয়েছেন দেশটি সফররত যুক্তরাজ্যের আফ্রিকাবিষয়ক মন্ত্রী মার্ক সিমনডস। অপহূত ছাত্রীদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক অভিযানের বিষয়ে আলোচনা করতে নাইজেরিয়া সফরে যান সিমনডস। রাজধানী আবুজাতে প্রেসিডেন্ট জনাথনের সঙ্গে বোকো হারামের বন্দিবিনিময় শর্তের কথা তুললে জনাথন তা নাকচ করেন বলে জানান সিমনডস।—সূত্র :নিউইয়র্ক টাইমস