কুমিল্লায় সরকারি জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৪, ২২:৩৪
কুমিল্লায় কান্দিরপাড়ে বন্দোবস্ত শর্ত লংঘন করে সরকারি জমিতে বহুতল বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন নির্মাণের পাঁয়তারা করছে একটি হাউজিং (ডেভেলপার) কোম্পানি। সরকারের শতকোটি টাকার ওই ভূমিতে স্থাপিত দীপিকা ও দীপালি সিনেমা হল ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।
বিগত সময়ে জেলা প্রশাসন থেকে ওই ভবন ভাঙ্গার কাজে বাঁধা দিলেও বর্তমানে বিনা বাঁধায় ভেঙ্গে ফেলা হয় জনগণের বিনোদনের প্রাচীন এ সিনেমা হল। এদিকে সরকারের এ জায়গার ভবন ভাঙ্গা হচ্ছে কি-না বা সংশ্লিষ্টরা ভেঙে থাকলে কার আদেশে ও কীভাবে ভাঙছে এর কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।
৬৩ শতাংশ সরকারি এ ভূমিতে সিনেমা হল ও হোটেল নির্মাণের জন্য ১৯৬৩ সালে ‘মেসার্স দেলোয়ার থিয়েটার এন্ড এন্টারপ্রাইজের’ স্বত্বাধিকারীকে অনুমতি দেয়া হয়। শর্তানুযায়ী সেখানে ১৯৬৭ সালে ‘দীপিকা’ ও ১৯৯৬ সালে ২য় ভবনের ৩য় তলায় চালু করা হয় ‘দীপালি’ নামের আরো একটি সিনেমা হল। ওই ভবনে ব্যাংক, আবাসিক হোটেল ও ২৮টি দোকান রয়েছে।
২০১২ সালের ১৫ জুন বন্দোবস্তের ওই স্থানে বহুতল বাণিজ্যিক, আবাসিক ও নতুন সিনেমা হল নির্মাণের জন্য অনুমতি চেয়ে মেসার্স দেলোয়ার থিয়েটার এন্ড এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার অহিদুর রহমান কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেন। উপজেলার তত্কালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান দায়িত্ব পেয়ে একই বছরের ১১ জুলাই দাখিলকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন ‘যেহেতু উক্ত ভূমি সরকার থেকে শুধুমাত্র সিনেমা হল ও হোটেল নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল, তাই বন্দোবস্ত শর্ত মোতাবেক সেখানে বাণিজ্যিক কিংবা আবাসিক ভবন তৈরির কোন সুযোগ নেই।’
গত বছর জানুয়ারিতে বন্দোবস্ত গ্রহীতার পক্ষে ওই হাউজিং কোম্পানি দীপিকা সিনেমা হল ভাঙ্গার কাজ শুরু করে। তত্কালীন জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল আহসানের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে ভবন ভাঙ্গার কাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু গত দু মাসে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য হল ও ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। ভবন ভাঙ্গার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মহলে কোর্টের আদেশের কথা বলা হলেও জেলা প্রসাশনের সংশ্লিষ্ট দফতরে খোঁজ নিয়ে সিনেমা হল ভেঙ্গে ওই সম্পত্তিতে বহুতল ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত আদালতের কোন আদেশের সত্যতা পাওয়া যায়নি।