গাইবান্ধা কাবিখা প্রকল্পে গোঁজামিল ও লুটপাট

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিশেষ কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পের কাজে লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেনতেন কাজ করে প্রি-ওয়ার্ক ও পোস্ট-ওয়ার্ক (কাজের আগে ও পরে) মাপে গোঁজামিল দেখিয়ে বেশিরভাগ টাকা আত্মসাত করা হয়। সম্প্রতি বর্তমান এমপি মনজুরুল ইসলাম প্রকল্প পরিদর্শন করে কাজের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে না পেয়ে জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিশেষ কাবিখা কর্মসূচির আওতায় শেষ হওয়া এরকম তিনটি প্রকল্প সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এরমধ্যে তারাপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দা মৌজার মানিকের খেয়াঘাট হতে নজিরের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কি.মি. সড়ক পুনঃনির্মাণে ১৭ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়। এই পরিমাণ গম দিয়ে ৩ হাজার ৫১৬ ঘনমিটার মাটি কাটার কথা। কিন্তু সড়কটি মেপে দেখা গেছে, মাত্র ৮২৭ ঘনমিটার মাটি ফেলা হয়েছে। প্রকল্প চেয়ারম্যান ও তারাপুর ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শাহ আলম বলেন, সাবেক এমপির লোকজন আমাকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা দেন। সড়কে ওই টাকার কাজ করা হয়েছে। অপরদিকে তারাপুর ঈদগাহ মাঠ ভরাটে চার হাজার ১৩৬ ঘনমিটার মাটি কাটতে ২০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়। তারাপুর গ্রামের শিক্ষক মুকুল মিয়া অভিযোগ করেন, আমি প্রতিদিন এই মাঠের পাশ দিয়ে উপজেলা শহরে যাতায়াত করি। কিন্তু ৩০-৪০ জন শ্রমিককে কয়েকদিন মাত্র মাটি ফেলতে দেখেছি। অথচ প্রকল্প চেয়ারম্যান ও তারাপুর ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রুহুল আমীন ভুয়া মাস্টাররোল (শ্রমিকদের কার্য তালিকা) দাখিল করে টাকা লুটপাট করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি তারাপুর ঈদগাহ মাঠ থেকে আবুল হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক পুনঃনির্মাণেও ২০ মেট্রিক টন বরাদ্দ পান। এ কাজেও লোক দেখানো মাটি ফেলে টাকা লুটপাট করেছেন। ইউপি সদস্য রুহুল আমীন বলেন, আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক নয়। বরাদ্দকৃত সব গম দিয়েই মাটি ভরাট করা হয়। তবে কাজের ঊনিশ-বিশ হতে পারে। লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে সুন্দরগঞ্জের পিআইও জহিরুল ইসলাম বলেন, যেসব প্রকল্প চেয়ারম্যান কাজ ঠিকমত করেননি, তাদের পুরো গম ছাড় করা হয়নি। সময় আছে, কাজ বুঝে নেয়া হবে। সুন্দরগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কর্ণেল (অব.) আব্দুল কাদের খান বলেন, আমি প্রকল্প তালিকা দিয়েছি। কিন্তু তদারকির দায়িত্ব পিআইও’র। কারণ তালিকা দেয়ার পরই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।