মন্দায় সৃজনশীল বই ব্যবসা

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশী সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শে বাংলাদেশের লেখকদের সৃজনশীল বই প্রকাশের উদ্যোগ নেন চিত্তরঞ্জন সাহা। প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ। যাত্রা শুরু করে মুক্তধারা প্রকাশনী। ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ এবং ‘রক্তাক্ত বাংলা’ নামে দুইটি সংকলন গ্রন্থ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৭১ সালে মুক্তধারা কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় বাংলাদেশী শরণার্থী লেখকদের ৩২টি বই। সাহিত্যিক জহির রায়হান, সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী, কবি আসাদ চৌধুরী, প্রাবন্ধিক-ঔপন্যাসিক আহমদ ছফাসহ বাংলাদেশী বহু শরণার্থী লেখকদের সৃষ্টি এ ৩২টি বই প্রকাশের হাত ধরেই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের যাত্রা। যুদ্ধের আগেও এ বাংলায় এ শিল্প গৌরবোজ্জ্বল ধারাতেই পরিচালিত হয়ে আসছিল। চিত্তরঞ্জনের হাতেই ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল প্রকাশনা সংস্থা পুঁথিঘর লিমিটেড। পাঠকশ্রেণি তৈরি ও বাংলা বই প্রকাশনা বিকাশের লক্ষ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে যাত্রা শুরু করে বাঙালির প্রাণের বই মেলা। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৩ বছর কেটে গেলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি বাংলাদেশের প্রকাশনা জগত্। তৈরি হয়নি বিশেষ বিশেষ পাঠকশ্রেণি। চার দশকে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বহুগুণ বাড়লেও একই হারে বাড়েনি প্রকাশনার মান। সাধারণ কাটতির দিকে প্রকাশকদের নজর থাকলেও পাঠকভেদে প্রকাশনায় তৈরি হচ্ছে না বৈচিত্র্য। সব মিলিয়ে দেশের প্রকাশনা শিল্পের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িতদের অনেকেই ভাবছেন এ পেশা ত্যাগ করার। কেউ কেউ এ পেশায় বিনিয়োগ কমিয়ে পৃথক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। আবার পেশা টিকিয়ে রাখতে কেউ কেউ সৃজনশীল বই প্রকাশ বাদ দিয়ে বা কমিয়ে দিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন, বুকলেট ছাপাতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে দেশে একদিকে যেমনি নতুন নতুন পাঠকশ্রেণি তৈরি হচ্ছে না, অন্যদিকে মানসম্মত নতুন সৃজনশীল বই প্রকাশও ঠিকভাবে বাড়ছে না। বাণিজ্যিক অর্থে শিল্প হয়ে উঠতে পারছে না প্রকাশনা ব্যবসা। প্রকাশনার সংখ্যানুপাতে বাড়ছে না বিক্রি দেশে প্রতি বছর কী পরিমাণ সৃজনশীল বই প্রকাশ এবং বিক্রি হয়, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। তবে বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা এবং বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে এ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে চার হাজারের বেশি বই বের হচ্ছে। আর বছরে প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ কপি বই বিক্রি হয়। বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির ২০১৩ সালের বইয়ের তালিকায় ১১৮টি সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ‘বাংলাদেশে পুস্তক প্রকাশনা’ শীর্ষক গ্রন্থে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদ এক ছকে ১৯৯০ সালে বই প্রকাশের সংখ্যা হিসেবে ৯টি শীর্ষ প্রকাশনীর নাম উল্লেখ করেন। ২০১৩ সালে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির তালিকায় আগের তালিকার ঐ শীর্ষ প্রকাশনীগুলোর মধ্যে বাংলা একাডেমী ছাড়া ইউপিএল ও মাওলা ব্রাদার্সের অবস্থান দেখা যায়। বাকিদের প্রকাশনা কমে গেছে বহুগুণ। অনেকে ধুঁকে ধুঁকে টিকে আছে। তবে এ সময়ে বেশ কয়েকটি নবীন ও মধ্যবয়সী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বই প্রকাশের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরে শতাধিক নতুন বইও প্রকাশ করছে কয়েকটি সংস্থা। জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির গত বছরের তালিকা থেকে জানা যায়, বই প্রকাশের সংখ্যা বিবেচনায় যে সব প্রকাশনা সংস্থা এগিয়ে আছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্যপ্রকাশ, ইউপিএল, অনন্যা, অবসর, আগামী, ঐতিহ্য, প্রথমা, সময়, পাঠক সমাবেশ, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। তবে প্রকাশনা সংস্থার সংখ্যা এবং বই ও বইয়ের কপি প্রকাশের হার আশানুরূপ নয় বলে মনে করেন প্রকাশক-লেখক-পাঠকরা। কোন বই কত কপি বিক্রি হয়-হচ্ছে, এমন তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে দিতে নারাজ দেশের অধিকাংশ প্রকাশনা সংস্থা। এ ব্যবসা এখনও বাংলা একাডেমির বই মেলা নির্ভর হয়ে আছে। নামপ্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রকাশক জানান, দেশে ভালো মানের লেখক অনেক কম। পাঠকশ্রেণিরও আশানুরূপ পাঠাভ্যাস গড়ে ওঠেনি। তাই একটি নতুন বই গড়ে ৩০০ থেকে এক হাজার কপির বেশি বিক্রি হয় না। খুব ভালো মানের ও অনেক বেশি জনপ্রিয় লেখকের বই হলে বিক্রি আরও চার থেকে বিশ গুণ পর্যন্ত বাড়ে। তবে দেশের মোট জনসংখ্যার অনুপাতে তা সামান্যই। ভারত-জার্মানীতে যেখানে ভালো একটি বইয়ের বিক্রি কয়েক লাখ ছাড়িয়ে যায়, সেখানে বাংলাদেশে দুই-একটি বাদে কোনো বই এক লাখ বিক্রি হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায় না। এ প্রসঙ্গে কাকলী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী এ কে নাছির আহমেদ সেলিম বলেন, বই অনেক ছাপা হচ্ছে। প্রকাশনা সংস্থাও বেড়েছে। কিন্তু অনেক প্রকাশকই পাঠকের চাহিদা মত বই ছাপায় না, তাই বিক্রিও কম হয়। পাঠকের চাহিদানুযায়ী বই ছাপা হলে বিক্রি অনেক বাড়ে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৩ বছরেও দেশে বই ব্যবসা ঠিক স্থিতিশীলতা পায়নি। বইয়ের বাজার বড় হচ্ছে না। পাঠকদের পড়ার অভ্যাস কমে গেছে। নতুন পাঠক আশানুরূপ তৈরি হচ্ছে না। রাজধানীতে নতুন বুক আউটলেট খোলার সুযোগ করে দিতে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। নেই তথ্য ব্যবস্থাপনা দেশে ১৯৯২ সালে জাতীয় গ্রন্থনীতি প্রণীত হয়। কিন্তু নীতি প্রণয়নের পর দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দেশের গ্রন্থ প্রকাশনা-বিপণন-ব্যবস্থাপনায় শৃংখলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের সৃজনশীল বইয়ের চাহিদা পরিমাপ এবং চাহিদা বৃদ্ধির জন্য টেকসই কোনো পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত গৃহীত ও বাস্তবায়িত হয়নি। দেশে বার্ষিক কী পরিমাণ বই বিক্রি হয়, সেই তথ্যও সামগ্রিকভাবে সংরক্ষণ করা হয় না। বই বিক্রির পরিমাণ নির্ণয় করতে হলে কোন বইয়ের কোন সংস্করণ কখন, কত কপি, কত ছাড়ে বিক্রি করা হয় তার হিসাব থাকা প্রয়োজন। এই বিক্রি থেকে লাভ হিসাব করতে হলে বইয়ের সকল সংস্করণ ও তার উত্পাদন খরচ, লেখকের সম্মানী, প্রচারণার খরচ ও সংরক্ষণের খরচের হিসাব প্রয়োজন। কিন্তু কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থা এ ধরনের হিসাব মোটামুটি সংরক্ষণ করলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই তা করে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কোনো ব্যবসায় তথ্য ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যবস্থাপনা ঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারলেই ব্যবসায় পরিধি বৃদ্ধির পরিকল্পনা সঠিকভাবে গ্রহণ করা সম্ভব। কিন্তু প্রকাশনা ব্যবসায় জড়িতদের অধিকাংশের মধ্যে এ তথ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রকাশে এক ধরনের অনীহা রয়েছে। প্রায় কোনো প্রতিষ্ঠানই তার বার্ষিক আয় কোন বই থেকে কী পরিমাণ হয়েছে, তা জানাতে পারেন না। বিষয়ভিত্তিক পাঠকশ্রেণি গড়ে উঠছে না দেশে বর্তমানে প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে উপন্যাস ও শিশু-কিশোরদের জন্য প্রকাশিত বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। কিন্তু সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, দর্শন, বিজ্ঞানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রকাশিত বইয়ের জন্য বড় পাঠকশ্রেণি গড়ে উঠছে না। প্রকাশিত উপন্যাসগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় লেখকদের বই ছাড়া অন্যদের বই তেমন বিক্রি হয় না। সমাজ ও রাজনীতি বিষয়ে বেশ কয়েকটি বইয়ের লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন অধ্যাপক জানান, ভালো বই এমনিতেই বাজারে কম। আবার ভালো বইয়ের জন্য শুরুতে যে মার্কেটিং দরকার, তা প্রকাশকরা করেন না। পাঠক বই সম্পর্কে আগাম তথ্য কমই জানেন, ফলে বইয়ের আশানুরূপ বিক্রি হয় না। একজন নবীন লেখক অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকা ও দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য পাতায় বিভিন্ন সময় ভালো বইয়ের পরিচিতি-রিভিউ ছাপানোর চেয়ে স্বজনপ্রীতির কারণে অপেক্ষাকৃত কম মানসম্পন্ন বইয়ের প্রচারণা করা হয়। ফলে নবীন ভালো লেখকরা বঞ্চনার শিকার হন। এ প্রসঙ্গে পাবলিক লাইব্রেরিতে নিয়মিত পড়েন এবং নতুন বই প্রকাশ সম্পর্কে খোঁজ রাখেন এমন কয়েকজন পাঠকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বই মানুষ প্রয়োজনে পড়ে। আবার পছন্দ-অভ্যাস থেকেও পড়ে। কিন্তু বাজারে রাজনীতি-অর্থনীতি-বিজ্ঞানের বই খুব কমই প্রকাশিত হয়। এ বিষয়গুলোতে ভালো লেখকও কম। তাই মান ভালো না হলে পাঠকরা স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের বই ক্রয় করেন না। আর উপন্যাস-গল্প পড়ার একটি গড়পড়তা ঝোঁক বাঙালি পাঠকের রয়েছে। এই কারণেই এর প্রকাশ ও বিক্রি বেশি। তবে ভালো মানের বিষয়ভিত্তিক বই প্রকাশিত হলে তার কাটতিও অনেক বেশি বলে স্বীকার করেছেন একাধিক প্রকাশক। নবীন ছাত্র-পাঠক কমছে! কয়েকজন প্রকাশকের দেয়া তথ্য মতে, দেশে শিক্ষার প্রসার ঘটলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীল বই পড়ার প্রবণতা কমছে। আগে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে বার্ষিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে বই প্রদান করা হত। বর্তমানে এ ধারা অনুসর করে না স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষই। পাঠ্যপুস্তকের সাথে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল বই হাতে পেলে তাদের পাঠাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আসত। এছাড়া সাম্প্রতিক তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি সময় দেন। তারা সৃজনশীল বই পড়তে যে সময় ব্যয় করতে পারত, তার সিংহভাগই ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের সাইটে ব্যয় করেন। তাই শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও নবীন পাঠক সংখ্যা সেই হারে বাড়ছে না। বইয়ের নির্দিষ্ট বাজার নেই প্রকাশকরা বলছেন, বই ব্যবসার বিকাশের জন্য রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে বইয়ের একক বড় বাজার (মার্কেট প্লেস) নির্মাণ করা দরকার। ঐ বাজারে মোটামুটি সব প্রকাশনীর বিক্রয় কেন্দ্র থাকবে। এর ফলে পাঠক তাদের পছন্দের ও প্রয়োজনীয় বই সহজে কিনতে পারবেন। বর্তমানে দেশে বাংলা বাজার, নিউ মার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, কাঁটাবন, নীলক্ষেত বইয়ের বড় বাজার হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এ স্থানগুলোতে শৃংখলামত বইয়ের দোকান সাজানো হয়নি। বাংলাবাজার ছাড়া অন্য বাজারগুলোতে সৃজনশীল বইয়ের প্রকাশকদের উপস্থিতিও তেমন নেই। এছাড়া লেখক-প্রকাশক-পাঠক যোগাযোগ তৈরির জন্যও বাজারগুলোতে পরিবেশ নেই। বইয়ের নির্দিষ্ট বাজার তৈরি এ ব্যবসার বিকাশে এবং এটি শিল্প হিসেবে গড়ে উঠতে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করেন প্রকাশকরা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গনি বলেন, রাজধানীতে বইয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র বাজার নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। এ লক্ষ্যে সরকারের সাথে আলোচনা চলছে। এ বাজার প্রতিষ্ঠা হলে বইয়ের ব্যবসায় গতি আসবে। জাতীয় গ্রন্থনীতি প্রণয়ন কমিটির একজন সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক বলেন, বাংলাদেশের গ্রন্থ পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য লেখক-প্রকাশক-পাঠকদের সম্পর্কে পরিপক্কতা আসেনি। প্রকাশকরা দীর্ঘমেয়াদি ও সাংগঠনিক পরিকল্পনা ছাড়াই মুনাফা লাভের চেষ্টা করেন। এ দোষ ও শূন্যতা পূরণ হলেই শুধু বই ব্যবসা নয়, সামাজিক মূল্যবোধ পরিস্থিতিরও উন্নয়ন ঘটবে।