ভারতে কি কোয়ালিশন যুগ শেষ হতে যাচ্ছে

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অস্তিত্ব ছিল না। গত ৩৪ বছরে দলটি ২শ আসনেও জয় পায়নি। গত ৩০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো রাজনৈতিক দল এককভাবে ক্ষমতায় যাচ্ছে। কেবল তাই নয়, দেশটির স্বাধীনতার পর এই প্রথম অ-কংগ্রেসীয় কোনো দল এককভাবে ক্ষমতার মসনদে বসছে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ভারতে হয়তো কোয়ালিশন সরকারের যুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিজেপি এককভাবে ২৮৩টি আসনে জয় পেয়েছে যা ৫৪৩ আসনের লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের চেয়ে ১১টি বেশি। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যান্য দল ৫৪টি আসন পাওয়ায় এনডিএ মোট পেয়েছে ৩৩৭ আসন। তবে সরকার গঠন করতে জোটের অন্য কোনো দলের সহায়তা নেয়ার প্রয়োজন হবে না বিজেপির এবং আগামী ৫ বছর সরকার পরিচালনায় তাদের সহযোগিতা না নিলেও চলবে। আর কংগ্রেস আসন জয়ের দিক থেকে ৪৪টিতে সীমাবদ্ধ রয়েছে যা দলটির নির্বাচনী ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল। ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় গেলেও কংগ্রেস ১১৪টি আসন লাভ করেছিল। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পর থেকে হয়তো এমন কোনো নেতা তৈরি হয়নি- যিনি এবারের নির্বাচনের মতো ভোটারদের মন জয় করতে পেরেছেন, যেটা দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পেরেছেন। ১৯৭৭ সালে কংগ্রেস বিরোধী জোট ৩০২ আসনে জয় পেয়েছিল। মোদী গুজরাট রাজ্যে ২০০২ সালে প্রথম নির্বাচন করেছিলেন। আর এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিলেন। নির্বাচনে মোদীর অবদান তার পূর্বসূরী সবাইকে অতিক্রম করেছে। এমনকি বিজেপির সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি এবং সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী এলকে আদভানির চেয়েও। এবারের নির্বাচনে বিজেপির পিতৃত্ব সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) মোদীকে নেতৃত্ব দিতে নিযুক্ত করে। তিনি নেতা-কর্মীদের মধ্যে নির্বাচনে উদ্দীপনা জাগাতে এবং ভোটারদের প্রভাবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং বিজেপিকে ভারতের মতো বিশাল দেশ শাসনের উপযোগী দল হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হন। ১৯৯৮ এবং ১৯৯৯ সালে অটল বিহারি বাজপেয়িকেও মিত্রদের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। বাজপেয়ি দলকে উত্তর ভারত ছাড়া অন্য কোনো স্থানে তেমন শক্তিশালী করতে পারেননি। এই নির্বাচনে অনেকেই আশা করেছিল, এনডিএ ৩শ আসনের বেশি অতিক্রম করবে এবং বিজেপি এককভাবে ২৭২ আসনের বেশি পাবে। আর কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ৫০-এর নীচে নেমে যাবে। এখন বিজেপি যে আর উত্তর ভারতের দল নয় তা মোদী প্রমাণ করেছেন এই নির্বাচনে। এটা এখন জাতীয় দল। দলটি দক্ষিণ, পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে নিজেদের উপস্থিতিতে সমৃদ্ধ করেছে। দলটি ঐতিহ্যগতভাবেই গুজরাট, গোয়া, রাজস্তান, হিমাচল এবং উত্তরখণ্ডে ভাল করেছে। আর এর ফলে ভোটের ঘরে বিজেপির জন্য আঞ্চলিক বিজু জনতা দল, এআইএডিএমকে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থনের প্রয়োজন হবে না। বিজেপির এক নেতা জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার বিজেপি এবং আরএসএসের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। সেখানে মোদীর মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সবকিছু হবে মোদী কি চান তার ভিত্তিতে। যারা মোদীর বিরোধী বলে দলে পরিচিত তারাও তাকে সমর্থন দিচ্ছেন। আর এক্ষেত্রে মোদী কি সিদ্ধান্ত নেবেন সেটা বলা খুব কঠিন। দলটির একটি সূত্র জানিয়েছে, বিজেপি এই নির্বাচনে মোদীর কারণেই বিপুল জয় পেয়েছে। তাই মোদীই সিদ্ধান্ত নেবেন। দুর্ভাগ্যবশত মোদীর প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে অনেক সমস্যা ছিল; কিন্তু সব সমস্যার সমাধান শিগগিরই হবে বলে মন্তব্য করেন ওই নেতা।