ভারতে সরকার পরিবর্তন হলেও ক্ষমতায় থাকবে আওয়ামী লীগ :আশরাফ
প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৪, ২২:৫৫
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, যাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই তারা মনে করছেন ভারতে কংগ্রেস ক্ষমতায় না থাকলে আওয়ামী লীগও ক্ষমতায় থাকবে না। তারা মূলত আহাম্মকের দল। ভারতে সরকার পরিবর্তন হলেও তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক অক্ষুণ্ন থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা স্বাধীন, যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কারো দয়ায় এই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। আর এই স্বাধীনতা পার্শ্ববর্তী ভারত-নেপাল, দূরের আমেরিকা বা কোনো দেশের কাছে বন্ধক দেইনি। আমরা কারো মুরিদও না। তাই ভারতে কংগ্রেস ক্ষমতায় না থাকলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ভারতে বিজেপির নেতা নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসছেন বলে যারা খুশি হয়েছেন তাদেরকে ‘আহাম্মকের দল’ হিসাবে আখ্যায়িত করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, মিয়ানমার, ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ, তাদের ক্ষমতার পরিবর্তনে বাংলাদেশের কিছুই হবে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’-এই নীতিতেই আমরা বিশ্বাসী।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, আমরা চাই সব দেশের সঙ্গে মিলে বিশ্বের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করতে। যারা ভারতের নিঃশেষ দেখতে চায়, তারা মোদীকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। তবে কারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এটা মোদী ভালো করেই জানেন। সমপ্রতি মিডিয়ায় প্রকাশিত আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আশরাফুল ইসলাম বলেন, ক্ষমতার লোভ-লালসা ত্যাগ করতে হবে। অনেকের ব্যাপারে অনেক সময় পত্রপত্রিকায় লেখা হয়। এটা পাঠকের জন্য বা আমার জন্য সুখকর নয়।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপি নেতৃবৃন্দের কথায় মনে হচ্ছে, ভারতে মোদীর বিজয় হয়নি, হয়েছে বিএনপির বিজয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভারতের মোদীর শাসন আমলেই সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হবে। তিস্তা পানির ন্যায্য হিস্যা পাবো। সীমান্ত হত্যা বন্ধেরও চুক্তি স্বাক্ষর হবে। নারায়ণগঞ্জের ৭ হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে। বিচার হবে।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিম বলেন, খালেদা জিয়া নারায়ণগঞ্জের ৭ হত্যার ঘটনায় মায়াকান্না দেখাতে গিয়েছিলেন। কারণ নূর হোসেন আওয়ামী লীগের কর্মী নয়, সে বিএনপির লোক।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ।