সবার সেরা রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

আলো ঝলমলে সকাল। অস্থির কিছু চোখ। মায়াভরা মুখের ছড়াছড়ি। সবাই অপেক্ষায়। কখন ফল প্রকাশিত হবে। অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ। বিদ্যালয়ের মূল ফটকে টাঙানো হল পরীক্ষার ফল। সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। হাসি-গানে মুখরিত হয়ে ওঠে স্কুলের আঙ্গিনা। গতকাল শনিবার এমনই ছিল রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চিত্র। সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে রাজধানীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের দিক থেকে ঢাকা বোর্ডে এই বিদ্যালয়টি এবার প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ২০১১ ও ২০১২ শিক্ষাবর্ষেও প্রতিষ্ঠানটি এসএসসিতে প্রথম স্থান অধিকার করে। তবে ২০১৩ সালে সম্মিলিত মেধা তালিকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ছিলো তৃতীয়। এ বছর রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫১৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সবাই পাস করেছে। পাসের হার শতভাগ। পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫০৭ জন সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাংলা মাধ্যম থেকে বিজ্ঞান বিভাগের ২৮৮ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকেই জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর বাণিজ্য বিভাগের ৩৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২ জন। স্কুলটির ইংরেজি মাধ্যমের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা অংশ নেয় ১৭৯ জন, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৩ জন। আর বাণিজ্য বিভাগের ১৫ জন শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পেয়েছে। গতবছর রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪৩০ জন শিক্ষার্থী। পাস করে সবাই। ৩৯২ জনই অর্জন করে সর্বোচ্চ সাফল্য জিপিএ-৫। বাকি ৩৮ জন পায় জিপিএ চার দশমিক ৫০ থেকে চার দশমিক ৯৪ এর মধ্যে। কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইনামুল হুদা জানান, নিয়মিত পাঠদান ও তদারকি, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার অবস্থা নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করার কারণেই ফলাফল ভালো হয়েছে। তিনি জানান, ভালো ফলাফল করতে শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিকে দুর্বলতা কাটাতে বেশি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। স্কুলে সিলেবাস তৈরি করে সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। মূল্যায়ন করা হয় শিক্ষকদের শিক্ষাদান পদ্ধতি। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী তাসমিয়া রহমান জানায়, সে প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা পড়ালেখা করতো। ভালো ফলাফলের পিছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবদান রয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী জাহিন আনামের মা হাসিনা বানু বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য প্রাইভেট শিক্ষকের ওপর নির্ভর না করে বাড়িতেই মেয়ের লেখাপড়ার দিকে লক্ষ্য রেখেছি। মেয়ের ভালো ফলাফলে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া আরেক শিক্ষার্থী বাবু আহমেদ বলেন, নিজের ফলাফলে আমি খুব খুশি। এবার স্বপ্ন পূরণের দিকে একধাপ বেশি এগিয়ে থাকলাম। একই বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া আরেক ছাত্র আফনান ইসলাম বলেন, আমার এই রেজাল্টের জন্য আমার শিক্ষক ও অভিভাবকের অবদান সবচেয়ে বেশি। বোনের পরীক্ষার ফল নিতে আসা আজমীর হোসাইন বলেন, আমার বোন আজ জিপিএ-৫ পেয়েছে, আমি আনন্দিত। এটা তার জীবনের প্রথম ধাপের সাফল্য, ভবিষ্যতেও সাফল্য অর্জন করবে বলে আমি মনে করি। ফল ঘোষণার পর পর মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিল নিপা ফারজানা। কিছুক্ষণ পর নিপা বলেন, এ কান্না আনন্দের, ১০ বছরের কষ্টের ফসল। এটার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।