মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া

লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল বিজয়ে নড়েচড়ে বসেছে মার্কিন গণমাধ্যমও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি গণমাধ্যম শুক্রবার লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ শুরু হতেই তাত্ক্ষণিকভাবে অনলাইনে ফল প্রকাশ করা শুরু করে। তবে প্রধান দুটি পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট মোদীর বিজয় নিয়ে সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। নিউ ইয়র্ক টাইমস লেখে, এক সময়কার চা বিক্রেতা মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। ভারতের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, দুর্নীতি নির্মুল করা, লাখ লাখ বেকারের চাকুরি সংস্থান, দারিদ্র দূরিকরণ ইত্যাদি প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসকে ধরাশায়ী করেছেন। এই ফল প্রমাণ করে ভারতীয়রা পরিবর্তনের জন্য ব্যাকুল ছিল। পত্রিকাটির সম্পাদকীয়তে কংগ্রেসের পরিবারতন্ত্রের কথাও বলা হয়। এতে বলা হয়, কংগ্রেসের জন্য এমন অবমাননাকর পরাজয় প্রত্যাশিত ছিল না। ভারতবাসী পরিবারতন্ত্রকে ভালো চোখে দেখছে না। কংগ্রেস এই পরিস্থিতি থেকে উঠতে পারবে কি না সেটা সময়ই বলতে পারবে। ঐতিহ্যবাহী দল কংগ্রেসের দায়িত্ব এখন কংগ্রেস পরিবার থেকে সরিয়ে অন্যত্র দেয়া উচিত বলে এতে মন্তব্য করে বলা হয়, এভাবেই ভারত কেবল একটি প্রকৃত বিরোধী দল পেতে পারে। সম্পাদকীয়তে মোদীর গুজরাটের উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, একই জাতীয় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তিনি গোটা ভারতে করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে টেনেছেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারবেন কি না সেটা সময়ই বলে দিতে পারবে। তাছাড় ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদী একজন নেতা কেমন শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন সেটাও দেখার বিষয়। ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গা থামানোর ব্যাপারে মোদীর ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করা হয়। মোদী একই সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে পারে এমন আশঙ্কাও উঠে আসে সম্পাদকীয়তে। মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট লেখে ‘মোদীর যুগ কি ভারতের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিচ্ছিন্ন করবে?’ গুজরাটে নরেন্দ্র মোদী অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি গুজরাটে অবকাঠামো খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন কাজ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি এই নির্বাচনে অঙ্গিকার করেছিলেন, গুজরাটে যেভাবে উন্নয়ন করেছেন ঠিক একইভাবে সারা ভারতেও করবেন। তবে মোদীর চরিত্র নিয়ে সমালোচনা আছে। বিশেষ করে ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দেশে এবং দেশের ভেতরে নানা সমালোচনা আছে। ভারতের ১৬৫ মিলিয়ন মুসলমানের কাছে তিনি কুখ্যাত হিসেবেই পরিচিত। তিনি কট্টরপন্থী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের আজীবন সদস্য। তাই সন্দেহ করা হচ্ছে, তিনি রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনের মতো নেতা হবেন কিনা। আর এই ধরনের নেতায় মোদী পরিণত হলে তিনি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে গুরুত্ব দিবেন। ফলে ভারতের অর্থনীতি হয়তো সারা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে।