ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ : একজন শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত প্রতিভা
প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৪, ২০:৩০
যথার্থ গুরুর যথার্থ শিষ্য আলাউদ্দিন গান শুনেই সারগাম লিখে দিতে পারতেন
আলাউদ্দিন বেশ কয়েক বছর পর দেশের বাড়িতে বেড়াতে এলে তাঁর বাবা- মা তাঁকে বিয়ে দেন। কিন্তু গৃহকোণে আবদ্ধ হবার মানসিকতা তাঁর ছিল না। তিনি বিয়ের রাতেই একরকম পালিয়ে গেলেন সঙ্গীত সাধনার জন্য।
ড. ফাল্গুনী রানী চক্রবর্তী
সঙ্গীতপাগল আলাউদ্দিন মাত্র দশ/ বারো বছর বয়সে সুরের টানে ঘর ছাড়েন। প্রথমে যাত্রাদলে পালাগান শোনাতেন। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন দলে গাইতে গাইতে একসময় তিনি পৌঁছে যান ঢাকায়। কিছুদিন ঢাকায় থেকে সোজা চলে গেলেন কলকাতায়। কলকাতার মতো বড় শহরে যেয়ে তিনি খানিকটা দিশেহারা হয়ে পড়েন। ক্ষুধা- তৃষ্ণায় কাতর এক কিশোরকে দেখে এগিয়ে এলেন এক ভদ্রলোক। ভদ্রলোক বালক আলাউদ্দিনের সঙ্গীত প্রেমে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে নিয়ে গেলেনশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ গোপালকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের কাছে। গোপালকৃষ্ণ তখন শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন । সঙ্গীতের প্রতি তীব্র অনুরাগ দেখে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও গোপালকৃষ্ণ আলাউদ্দিনকে গান শেখাতে সম্মত হলেন। শুরু হলো একজন গুরুর কাছে বসে গান শেখার পালা। সারগাম সাধনা করতে করতেই প্রায় সাত বছরের মাথায় গুরুর গোপালকৃষ্ণ প্রয়াত হলেন। কিন্তু মাত্র সাত বছরের সঙ্গীত সাধনা তাঁকে সঙ্গীতে ক্ষেত্রে বিশাল অর্জন এনে দিয়েছিল। যথার্থ গুরুর যথার্থ শিষ্য আলাউদ্দিন গান শুনেই সারগাম লিখে দিতে পারতেন। একই সাথে তিনি বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র যেমন— ক্লারিওনেট, সানাই, বীণা, সুরশৃঙ্গার ইত্যাদি বাজাতে শেখেন।
আলাউদ্দিন বেশ কয়েক বছর পর দেশের বাড়িতে বেড়াতে এলে তাঁর বাবা- মা তাঁকে বিয়ে দেন। কিন্তু গৃহকোণে আবদ্ধ হবার মানসিকতা তাঁর ছিল না। তিনি বিয়ের রাতেই একরকম পালিয়ে গেলেন সঙ্গীত সাধনার জন্য। সরোদ শেখেন ময়মনসিংহের ওস্তাদ আহমদ আলী খাঁর নিকট। পরে তিনি ওস্তাদ ওয়াজিস খাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। সংকল্প, প্রবল ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য, নিষ্ঠা, আন্তরিকতাই মানুষকে তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে। আর সঙ্গীতপ্রেমি আলাউদ্দিন এসব গুণের অধিকারী ছিলেন বলেই একসময় তিনি ‘ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’ বলে পরিচিত হন। তত্কালীন বৃটিশ সরকার তাঁর সঙ্গীত সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ খাঁ সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। দিল্লী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘ ডিলিট’ উপাধি দান করে। ভারত সরকার কর্তৃক অর্জন করেন ‘ পদ্মভূষণ’ খেতাব।
বিয়ের রাতে পালিয়ে গেলেও তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়েই সংসার করেছিলেন। তাঁর পুত্র- কন্যারাও সুযোগ্য সঙ্গীতপ্রেমি। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ১৮৬২ সালের ৮ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সবদার আলী। তিনি তাঁর পিতা মাতার তৃতীয় সন্তান। ১৯৭২ সালের ৬ অক্টোবর এই বরেণ্য সঙ্গীত প্রতিভা ইহলোক ত্যাগ করেন।