‘আলাদীনের চেরাগ’ কোথায় পেল বিজেপি!
প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৪, ২২:৩১
কংগ্রেস একবিংশ শতাব্দীর তারুণ্যদের মন জয় করতে পারেনি বলে অনেকের অভিযোগ। তাদের মনের আকাঙ্ক্ষা ধরতে পারেনি। শিক্ষিত তরুণদের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেনি সদ্যবিদায়ী সরকার। ফলে শিক্ষিতদের বিরাট একটা অংশকে বেকারত্ব বরণ করতে হয়েছে। মোদী তার নির্বাচনী প্রচারণায় এই কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, তিনি ক্ষমতায় আসলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূর করবেন এবং আন্তর্জাতিকভাবেও ভারতীয় তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিবেন
ভারতের রাজনীতিতে ভূমিকম্প ঘটে গেছে। রাজনীতির টেকটোনিক প্লেট ওলট-পালট হয়ে গেছে। তাইতো এতোদিনের শাসক কংগ্রেস ধরাশায়ী হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে। এরকমই একটা প্রতিবেদন অনলাইনে প্রকাশ করেছে ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা টাইমস অব ইন্ডিয়া। সত্যিই কী তাই! হ্যাঁ দেশটির ১৬তম লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে বিশ্লেষকদের সেই ধারণা যে মিথ্যা নয় সেটা সহজেই বলা যায়। সবার প্রশ্ন, এত বড় জয় কিভাবে পেল বিজেপি। কোথায় পেল আলাদীনের আশ্চর্য চেরাগ! ১৯৮৪ সালে মাত্র দু’টি আসন পাওয়া বিজেপি আজ এককভাবে ২৮৩ আসনের মালিক হয়ে দিল্লির ক্ষমতার মসনদে বসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপি কোনো আশ্চর্য প্রদীপ পায়নি। হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি’র তাক লাগানো জয় এবং কংগ্রেসের ব্যাপক পরাজয়ের পেছনে রয়েছে মোদীর প্রচার কৌশলসহ নানা কারন।
কংগ্রেস ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি দল। দেশটির ক্ষমতার মসনদে এই দলটিই বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছে। কিন্তু তারপরও এবার তাদের চরমভাবে হারার রথ থামাতে পারেনি কেউ। বিশ্লেষকরা মনে করেছেন, এর পেছনে নানা কারণ আছে। একবিংশ শতাব্দীতে প্রত্যেকটি দেশের মানুষ নতুন নতুন স্বপ্ন দেখে। তারা স্বাধীনভাবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়। কংগ্রেস ভোটারদের এই আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে পারেনি। কিন্তু মোদী পেরেছেন। তিনি মানুষকে স্বপ্নের ঘরে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি মন্দিরের বদলে টয়লেট নির্মাণের দিকে জোর দিবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ভারতে সুদিন আনবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন। তিনি নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন ভারতের একজন বড় মজদুর হিসেবে।
৯০’র দশকের পর থেকে ভারতের অর্থনীতি শক্তিশালী হতে থাকে। মূলত সদ্য বিদায় প্রধানমন্ত্রী বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মনমোহন সিংয়ের হাত ধরেই অর্থনীতির এই সমৃদ্ধ অবস্থান। কিন্তু গত বছর থেকে হঠাত্ করেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শতকরা ৫ ভাগের নীচে নেমে যায়। বাড়তে থাকে দ্রব্যমূল্য। মূল্যস্ফীতি দুই ডিজিটের ঘরে পৌঁছায়। মূল্যস্ফীতির লাগাম যুতসইভাবে টেনে ধরা সম্ভব হয়নি মনমোহন সরকারের পক্ষে। এর মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। ফলে কংগ্রেস সরকারের প্রতি তারা বিরাগভাজন হয়ে পড়ে। মোদী দুর্বল অর্থনীতিকে সবল করার অঙ্গীকার করে ভোটারদের বিশেষ করে মধ্যবিত্তদের মন জয় করতে সক্ষম হন।
কংগ্রেস একবিংশ শতাব্দীর তারুণ্যদের মন জয় করতে পারেনি। তাদের মনের আকাঙ্ক্ষা ধরতে পারেনি। শিক্ষিত তরুণদের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেনি সদ্যবিদায়ী সরকার। ফলে শিক্ষিতদের বিরাট একটা অংশকে বেকারত্ব বরণ করতে হয়েছে। মোদী তার নির্বাচনী প্রচারণায় এই কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, তিনি ক্ষমতায় আসলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূর করবেন এবং আন্তর্জাতিকভাবেও ভারতীয় তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিবেন।
দুর্নীতি ছিল কংগ্রেস সরকারের জন্য একটা বড় সমস্যা। খনি দুর্নীতি, সারদা কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন দুর্নীতি কংগ্রেসকে কেবল মানুষের কাছে দিন দিন অজনপ্রিয় দলেই পরিণত করেছে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগগুলোও বিজেপি মানুষের সামনে তুলে ধরেছে। দেশটির পার্লামেন্টে লোকপাল বিল পাস নিয়ে তুমুল হট্টগোল হয়েছে। মরিচের গুঁড়া ছিঁটানোসহ সংসদ সদস্যদের কাছে ছুরিও পাওয়া গেছে যা আন্তর্জাতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছে দেশকে। দুর্নীতিবিরোধী কর্মী আন্না হাজারে এবং তার সাগরেদ অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দুর্নীতিবিরোধী অনশন এবং অবস্থান মানুষের মধ্যে দুর্নীতির বিরোধী একটা মনোভাব তৈরি করেছে। পাশাপাশি সরকারের প্রতি বিরূপ মনোভাবের ধারণা জাগ্রত করেছে। সেই অরবিন্দ ‘কেজরিওয়াল আম আদমি পার্টি’ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। লোকসভা নির্বাচনে পেয়েছেন মাত্র চারটি আসন। কিন্তু ক্ষতি যা হবার হয়েছে কংগ্রেসের। আর বিজেপি এসব দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের ফসল নিজেদের ঘরে তুলে নিয়েছে।
সারা বিশ্বে এখন প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষের আচরণেও এসেছে পরিবর্তন। মোদীর নির্বাচনী প্রচারণায় প্রযুক্তির আঁচ লক্ষ্য করা গেছে ব্যাপকভাবে। আধুনিক প্রযুক্তির অ্যাড্রয়েড ফোন দিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। ব্যবহার করেছেন সেলফির মতো সাম্প্রতিক প্রযুক্তি। ভোটের দিনও সেলফিতে তিনি বার্তা পাঠিয়েছেন ভোটারদের কাছে। এ নিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠলেও আধুনিক মানসিকতা সম্পন্ন ভোটাররা সেটা লুফে নিয়েছেন সহজেই। কিন্তু মোদীর চেয়ে বয়সে অনেক তরুণ হয়েও সেই কাজটি করতে পারেননি কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান রাহুল গান্ধী। ফলে মোদীর বিজেপি প্রযুক্তির স্পর্শে আচ্ছাদিত তরুণদের মন জয় করতে পারলেও কগ্রেস পিছিয়ে ছিল।
সদ্যবিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং পরপর দুইবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর কারণেই তার প্রধানমন্ত্রী হওয়া। কিন্তু অভিযোগ ওঠে মনমোহন সিং সরকারে কর্তৃত্বহীন। ক্ষমতা সব সোনিয়া গান্ধীর হাতে। প্রধানমন্ত্রী অফিসের এক কর্মকর্তা মনমোহনের এই পরিস্থিতি নিয়ে একটি বইও লিখে ফেলেন। এ নিয়ে দেশটিতে তুমুল বিতর্ক হয়। এমনকি মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর সম্পর্ক খুব একটা ভাল ছিল না বলেও সাধারণ মানুষের মনে হতে থাকে। বিশেষ করে দাগী সন্ত্রাসীদের নিয়ে পাস করা একটি বিল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হলে রাহুল মন্তব্য করেন, এই বিল ছিড়ে উড়িয়ে দেয়া উচিত। আর এতে মনমোহন- রাহুল সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় বলে মনে করা হয়। এমনকি নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে মনমোহনের সত্ ভাই বিজেপিতে যোগদান করেন। যোগদানের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, তার ভাই মনমোহনকে যথাযথ সম্মান দেয়নি কংগ্রেস। যদিও মনমোহন সিংয়ের এক্ষেত্রে কিছু করার ছিল না।
ধর্ষণ ভারতে একটি ইতিহাস হয়েই থাকবে। ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে এক মেডিক্যাল ছাত্রী ধর্ষিত এবং মৃত্যুবরণ করার পর একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে থাকে। ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে সারা দেশে। এই আন্দোলন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনার অনেকের বিচার হলেও নেতিবাচক ভাবমূর্তি থেকে রক্ষা পায়নি দেশ এবং সরকার।
মোদীর ‘গুজরাট মডেল’ জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। বিজেপি’র মতে, ভারতে যতগুলো রাজ্য আছে তার মধ্যে গুজরাটেই সবচেয়ে বেশি উন্নতি হয়েছে। আর মোদীই গুজরাটের চারবারের মুখ্যমন্ত্রী। গুজরাটের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুত্ সমস্যার সমাধান, রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নতি মানুষের মধ্যে আকর্ষণ সৃষ্টি করে। ব্যবসায়ীরা গুজরাটে বিনিয়োগ করতে আকৃষ্ট হন। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও রাজ্যটিতে বিনিয়োগ করেন। এছাড়া রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ছিল ভাল। তাইতো মোদীর মা নির্বাচনের আগে বলেন, ‘মোদী গুজরাটে যেভাবে উন্নয়ন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলেও একই কাজ করবে সে’। এই গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে মোদীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছিল তা প্রমাণিত হয়নি। নির্বাচনের কিছুদিন আগে সুপ্রিম কোর্ট তাকে নির্দোষ বলে রায় দেয়। যদিও গুজরাটে এখনো এই সম্পর্কিত মামলা চলছে এবং মোদীর কয়েকজন ঘনিষ্ঠজনের বিরুদ্ধে মামলাও চলছে। মোদীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগের সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেনি কংগ্রেস। মানুষের কাছে মোদীকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে প্রমাণ করতে পারেনি দলটি। এটা কংগ্রেসের বড় একটা ব্যর্থতা।
ভারতের ব্যবসায়ীদের আধিপত্য খুব বেশি। সারা বিশ্বের ধনীদের তালিকায় ভারতীয়দের প্রাধান্য রয়েছে। কংগ্রেসের ওপর থেকে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো মুখ ফিরিয়ে নেয়। তারা নির্ভর করে বিজেপি’র ওপর। গুজব আছে যে বিজেপি’র নির্বাচনী প্রচারণায় কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করে এসব করপোরেট প্রতিষ্ঠান। ফলে মোদীর নির্বাচনী প্রচারণা চলে ব্যাপক জোরেশোরে। ভারতের গণমাধ্যম থেকে শুরু করে খুবই কম জায়গাই বাকি ছিল যেখানে মোদীর মুখোশ কিংবা মোদীর দলের প্রতীক পদ্মফুলের প্রচারণা ছিল না। এমনকি রুটির গায়েও ছিল মোদী এবং পদ্মফুলের ছবি। আর এদিক থেকে ভালভাবেই পিছিয়ে ছিল ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে পরিচিত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ)। কংগ্রেসের আর্থিক দৈন্যতাও প্রচারণায় লক্ষ্য করা গেছে। বিজেপি’র তিন ভাগের এক ভাগ অর্থ উত্তোলন করতে সমর্থ হয়। বিগত নির্বাচনের সময় কংগ্রেসই সবচেয়ে বেশি অর্থ উত্তোলন করতে সক্ষম হয়েছিল।
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জরিপে কংগ্রেসের ভরাডুবি এবং বিজেপি’র ব্যাপক জয়ের খবরই বেশি প্রকাশিত হয়। কিন্তু কংগ্রেস নেতৃত্ব এসব জরিপকে পাত্তা দেয়নি। কারণ ২০০৪ সালে এবং ২০০৯ সালে এরকম জরিপে বিজেপি’র জয়ের তথ্য দেয়া হলেও কংগ্রেসই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় আসে। ফলে কংগ্রেস নেতৃত্ব এসব জরিপের ফলাফল একরকম উড়িয়ে দেয়। কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের এই অতি আত্মবিশ্বাসই দলের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। প্রচারণায় কংগ্রেস নেতা-কর্মী- সমর্থকরা চেয়েছিল প্রিয়াঙ্কাকে। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা মা এবং ভাইয়ের প্রচারণায় আসলেও সার্বিকভাবে আসেননি। তারপরও তিনি মোদীর সমালোচনার জবাব ভালোভাবেই দিয়েছিলেন। বিশেষ করে তার স্বামী রবাট ভদ্রকে নিয়ে যেমন সমালোচনা ছিল। রবার্ট ভদ্রের সম্পদশালী হওয়ার বিষয় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয় ভারতে। বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়নি কংগ্রেসেরও অনেক সমর্থকরা। প্রিয়াঙ্কার প্রচারণায় সম্পূর্ণরূপে না আসাটা কংগ্রেসের জন্য নেতিবাচক হয়েছে বলে বিশ্লেষক মনে করেন।
২০০৪ সাল এবং ২০০৯ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে বামপন্থীদের এবং তৃণমূলের সম্পর্ক গভীর ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এই দলগুলোর সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্কে ফাটল ধরে। ফলে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী মাঠে নামতে পারেনি। তৃণমূল কংগ্রেস বাদে কংগ্রেস জোট এবং বামপন্থীরা নির্বাচনে ধরাশয়ী হয়। আর কংগ্রেসের সঙ্গে এসব দলের সম্পর্কের ফাটলে লাভবান হয়েছে বিজেপি।
আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনীতিক দেবযানী ইস্যুতে ভারত সরকারের সম্পর্কে চিড় ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভারত সরকার। ফলে সম্পর্কে দ্বন্দ্ব বাড়ে। আর যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মোদীর সঙ্গে বৈঠকও করে। ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোদীর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ভিসা ২০০৫ সালে বাতিল করে সেদেশের সরকার। সেই মোদীর সঙ্গেই গাট বাঁধে যুক্তরাষ্ট্র। এতে কংগ্রেসের প্রত্যক্ষ কোনো ক্ষতি না হলেও দেশিয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে মোদীর ভাবমূর্তি বাড়ে। এছাড়া এক সময়ের চা-ওয়ালা মোদীর বিবাহ ইস্যুকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় কংগ্রেস। দলটির ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় তেলেঙ্গানা ইস্যুও।