পুতিনের তারুণ্যের রহস্য
প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৪, ২২:৩২
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের স্ট্যামিনা দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, এই বয়সে তিনি এত শক্তি কোথায় পান? বোঝার কোনো উপায়ই নেই যে, চলতি বছরের অক্টোবরের ৭ তারিখ তার বয়স ৬২ পূর্ণ হবে। অন্য দশজনের তুলনায় তিনি যে শুধু ভালই আছেন তাই নয়, ডাক্তারি দৃষ্টিকোণ থেকে বয়স বিবেচনায় শারীরিকভাবে তার তারুণ্য ঈর্ষণীয়। সার্জন জেনারেল ও রাশিয়ান ফেডারেশনের অনার্ড ডক্টর মিনরভ ইতোজি নামক একটি ম্যাগাজিনে দেয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন, পুতিন খুবই এথলেটিক ব্যক্তি। খেলোয়াড়সুলভ লাইফস্টাইলের কারণে তার কর্মক্ষমতা প্রচুর। তিনি দিনের অনেকটা সময় ব্যয় করেন সাঁতারের পেছনে, যা তাকে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এ অভ্যাসটা তিনি ধরে রেখেছেন বহু বছর ধরে।
ওষুধ গ্রহণে পুতিনের রয়েছে ব্যাপক অনীহা। জ্বরজারি হলে কিংবা ঠাণ্ডা লাগলে ওষুধের ধারে-কাছেও যান না। এর পরিবর্তে ব্যবহার করেন প্রাকৃতিক নিয়ামক। চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে খান মধু, সঙ্গে করিয়ে নেন ম্যাসাজ। এতেই তিনি ফল পান টনিকের মতো। এছাড়া মাধে-মধ্যেই তিনি নেমে পড়েন জুডো চর্চ্চায়। শরীরকে চনমনে রাখতে এর জুড়ি নেই। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হল— খেলাটি পুরোপুরি নিরাপদ না হলেও তিনি কখনোই আহত হননি। পেশাদার জুডোবিদরাও জীবনে কোনো না কোনো সময়ে আহত হন।
কার্ডিওলজিস্ট শারানদাক একটি সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন, পুতিনের হূদব্যবস্থা এতোটাই ভাল যে, এরকম বয়সে যা খুব কম লোকেরই থাকে। তার মতে, নিয়মিত শরীরচর্চ্চা ও প্রথাগত ওষুধের জন্যেই তিনি এখন পর্যন্ত এতোটা চনমনে থাকতে পারছেন। ৬০ বছরের পরেও সুস্থ জীবনযাপন কর্মঠ লাইফস্টাইল বজায় রাখতে চাইলে সবার এমনই করা উচিত। দিনে এক ঘন্টা শরীরচর্চ্চা করলে অনেক রোগই কাছে ভিড়তে পারে না, যা পুতিনের বেলায় হচ্ছে। আর এমনিতেই তার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। এই বয়সেও তাকে সবকিছু রয়েসয়ে করার পরামর্শ দেন না তিনি। বলেছেন, যেমনিভাবে চলছেন, তেমনি চলতে। এখনই সতর্ক না হলেও চলবে।
ছোটবেলায় খুবই দুরন্ত ছিলেন পুতিন। মারপিট ও গণ্ডগোল বাধানোয় তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। লেখাপড়ার চেয়ে খেলাধুলার দিকেই ঝোঁক বেশি ছিল। বিশেষ টান অনুভব করতেন জুডোর প্রতি। গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর যোগ দিয়েছিলেন কেজিবিতে। ১৬ বছর চাকরির জীবনে সেখানে তিনি তার র্যাংক উন্নীত করতে পেরেছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল পর্যন্ত। কেজিবি থেকে অবসর নিয়ে ১৯৯১ সালে যোগ দিয়েছিলেন রাজনীতিতে। তার পরের ঘটনা বলার প্রয়োজন পড়েনা, তবুও বলা— প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলেিসন ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর হঠাত্ পদত্যাগ করলে পুতিন দায়িত্ব নিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের। পরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনিই জিতেছিলেন। ২০০৪ সালের পুননির্বাচনেও তাকে কেউ হারাতে পারেননি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে মেদভেদেভকে প্রেসিডেন্ট বানিয়ে ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন প্রধানমন্ত্রীর। ওই বছরই তিনি আবার প্রেসিডেন্ট (তৃতীয় মেয়াদে) নির্বাচিত হন। এগুলো যে কারণে বলা, দেশের রাজনীতির সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেও লাইফস্টাইল পাল্টাননি তিনি। কেজিবির অফিসার থাকাকালীন যে নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতেন, তা এখনো ধরে রেখেছেন। তাছাড়া পূর্বসূরী বরিস ইয়েলেিসনের মতো এ্যালকোহলের প্রতিও তার আসক্তি নেই। এটি সবারই জানা যে, রাশিয়ার সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় প্রেসিডেন্টকেই। সেজন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট থাকাটা খুবই জরুরী। জেভেরেভের মতে, পুতিনকে দেখে মনে হয়, বয়স হয়তো পঞ্চাশই হয়নি। টগবগে যুবকের মতো থাকবেন আরো বহুদিন। তাকে বার্ধক্য কাবু করতে পারবে না সহজেই। তাকে ঘায়েল করতে চাইলে বিরোধীদের বেছে নিতে হবে অন্য কোনো অস্ত্র।