বরিশাল মেডিক্যালে স্বজনদের ওপর চিকিত্সকদের হামলা

বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিত্সকদের হামলায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালের তৃতীয় তলার অর্থপেডিক্স ইউনিটে এ ঘটনা ঘটে। ইউনিটের মূল ফটক আটকে রেখে রোগীর লাশের পাশেই তার স্বজনদের উপর হামলা চালানো হয়। গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এ তাণ্ডব চলাকালে হাসপাতালের চিকিত্সা সেবা তো দূরের কথা রোগীর স্বজনরা ভয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন। হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ট্রাক্টর দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পেয়ে পটুয়াখালীর রেজাউল ইসলাম খোকন গত বুধবার হাসপাতালের অর্থপেডিক্স বিভাগে ভর্তি হন। গতকাল সকাল ৯টায় রোগীর আত্মীয়দের রক্ত আনার জন্য কর্তব্যরত চিকিত্সক সহকারী রেজিস্ট্রার সহিদুল ইসলাম পরামর্শ দেন। রক্ত নিয়ে আসার পর রোগীর স্বজনরা দেখতে পান খোকন মারা গেছেন। খোকনের বড় ভাই সেলিম খান ও ছেলে সোহেল খান কর্তব্যরত চিকিত্সকের কক্ষে গিয়ে রোগীর মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে সহকারী রেজিস্ট্রার সহিদুল ইসলাম ও ডা. মোসায়েক ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা কক্ষে থাকা স্কেল দিয়ে রোগীর স্বজনদের মারধর শুরু করেন। সেখানে সেলিম খানের ভাগ্নে সাগর হাজির হলে তিনজনে মিলে প্রতিবাদ করলে হাসপাতালে ইন্টার্ন ডাক্তারসহ বেশ কয়েকজন চিকিত্সক জড়ো হয়ে তাদের মারধর শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন সহযোগী অধ্যাপক স্বাচিপ নেতা ডা. মনিরুজ্জামান শাহিন। কিন্তু তিনি বিষয়টির সুরাহা না করে উল্টো মেডিকেল কলেজে খবর দিয়ে আরো শিক্ষার্থীকে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর ইউনিটের ফটক আটকে খোকনের লাশের পাশেই ৫০/৬০ জন ছাত্রসহ চিকিত্সকরা নিহতের স্বজনদের বেধড়ক মারধর করেন। এতে নিহতের স্ত্রী জুলিয়া ও শিশু কন্যা, ভাই সেলিম খান, তার ছেলে সোহেল খান, শাহিন খান, ভাগ্নে সাগর, কালু ও নিকট আত্মীয় কনা আহত হন। এদিকে হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের সাথে চিকিত্সকদের সংঘর্ষের খবর পেয়ে অপর ওয়ার্ড এবং অন্য তলা থেকে ইন্টার্ন চিকিত্সকরা এসে না বুঝে শুনেই অন্য রোগীর স্বজনদেরও মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে বেলা ১২টার দিকে কোতয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলায় আহত সোহেল খান জানান, শুধু মৃত্যুর কারণ জানতে চাওয়াতেই চিকিত্সকরা তাদেরকে বেধড়ক মারধর করে আটকে রাখে। তাদের সাথে থাকা নিহতের স্ত্রী থেকে শুরু করে কোন নারী সদস্যও এ হামলা থেকে রক্ষা পায়নি। ঘটনার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা হাসপাতালে জড়ো হন। পরে শর্তসাপেক্ষে হাসপাতালে সাংবাদিকদের ঢুকতে দিয়ে চিকিত্সকরা জানান, শুধুমাত্র তাদের ব্রিফিং শুনে চলে যেতে হবে। রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলা যাবে না। ব্রিফিংকালে ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগীর মৃত্যু হওয়ার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বজনরাই সহকারী রেজিস্ট্রার ও অন্য ডাক্তারদের মারধর করেছে। কক্ষের কিছু আসবাবপত্রও ভাংচুর করা হয়েছে। এদিকে লাশ নিয়ে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের বাইরে এসে সাংবাদিকদের জানান, মনিরুজ্জামান শাহীনের নেতৃত্বেই তাদের উপর হামলা ও নির্যাতন হয়েছে। পরবর্তীতে ডা. মনিরুজ্জামান শাহীনের সাথে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি পরিস্থিতি শান্ত করেছি। রোগীর স্বজনরা মিথ্যা বলছেন।