উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা দরকার
প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৪, ২৩:১২
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সহায়ক শক্তি হিসাবে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অবাধ তথ্য-প্রবাহ নিশ্চিত করেছে। গণমাধ্যম এখন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি সমাজের প্রতি কর্তব্যবোধ ও দায়িত্ববোধ থাকা উচিত।
রবিবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। কথিত সুশীল সমাজের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই সরকারের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে দেশের অগ্রগতি, মর্যাদা ও অস্তিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। নীতির বাইরে গিয়ে সুবিধা দিলে সরকার ভালো, দেশে সুশাসন থাকে। নতুবা দেশ ‘উচ্ছন্নে’ গেছে বলে প্রচার করা হয়। তারাই ৫ জানুযারির নির্বাচন বানচাল করতে দৌড়ঝাঁপ দিয়েছেন। কারণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ তাদের পছন্দ নয়। গণতন্ত্র থাকলে তাদের মোড়লিপনা থাকে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পরই তথ্য অধিকার আইন পাস করা হয়। তবে অবাধ তথ্য নিশ্চিত হওয়ায় সরকারের সমালোচনাও বেড়েছে। অবশ্য ক্ষমতায় থাকলে তো সমালোচনা শুনতেই হবে। আর জাতির পিতা একটা কথা বলতেন যে, যে গাছটা ফল দেয়, সেই গাছেই ঢিলটা পড়ে। নিষ্ফলা গাছে কেউ ঢিল মারে না। তাই যে যত বেশি কাজ করে তার তত বেশি কথা শুনতে হবে, এটা আমরা জানি। তবে এই শোনার মাধ্যমে একটা সুবিধা হয়, আমাদের সংশোধনেরও সুযোগ হয়। ভালোমন্দটা আমরা বিচার করতে পারি।
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের একমাত্র লক্ষ্য স্বাধীনতার সুফল বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া। এক্ষেত্রে তথ্য মন্ত্রণালয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, পঁচাত্তরে যখন সংবিধান লংঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পালা শুরু হয়, মিলিটারি ডিক্টেটররা ক্ষমতা নেয়, তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই মিডিয়াকে ব্যবহার করে কোন একসময় টেলিভিশনে এসে ‘আসসালামু আলাইকুম, আমি রাষ্ট্রপতি হলাম’ বলে তাদের যাত্রা শুরু হয়। আইয়ুব খান থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমান, জেনারেল এইচএম এরশাদ ধারাবাহিকভাবে যারাই এসেছে তারাই এভাবে ক্ষমতা দখল করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা খুব স্বাভাবিকভাবে যে, যারা সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতা দখল করে তারাতো মিডিয়ার স্বাধীনতা দেবে না। কারণ এটাই তো তাদের একমাত্র যন্ত্র, যার মাধ্যমে তারা তাদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করবে, মানুষকে বিভ্রান্ত করবে এবং তাদের ক্ষমতার বাহন হিসেবে ব্যবহার করবে। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি তখন বাংলাদেশে বেসরকারিখাতে টেলিভিশন চ্যানেল উন্মুক্ত করে দেই। রেডিও, টিভি ও সংবাদপত্রের অনুমোদন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, গণতন্ত্রকে আরো বিকশিত করা, মানুষের মাঝে গণতান্ত্রিক চেতনার উন্মেষ ঘটানো এবং যেহেতু আমরা বার বার মিলিটারি ডিক্টেটর দ্বারা নিষ্পেষিত হয়েছি তাই বারবার অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল হয়েছে, এ ঘটনা যাতে আর না হয় সেজন্য মানুষের সচেতনা সৃষ্টি করার জন্যই আমরা এ পদক্ষেপ নিয়েছি। এখন স্থানীয় জনগণ বাজারদর, আবহাওয়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ড ইত্যাদি সহজে জানতে পারছে।
সংসদ টিভি চ্যানেলের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্রকে বিকশিত ও মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০০৯ সালে তার সরকার সংসদ টিভি চ্যানেল চালু করে। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, তাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কি বলছেন তা জানতে পারছে।
সমাজের জন্য ক্ষতিকর অনুষ্ঠান সমপ্রচার রোধে নীতিমালা প্রণয়নের উপর গুরত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় দেখা যায় কিছু গণমাধ্যম আপন মনের মাধুরী মিশিয়েই লিখে যাচ্ছে। যার হয়তো কোন সূত্র নেই, যার কোন সত্যতা নেই। তবে কেউ যাতে সমাজ, পরিবার ও দেশের জন্য ক্ষতিকর কোন কাজ না করতে পারে সেজন্য একটা সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকা দরকার। সে লক্ষ্যে একটা সমপ্রচার নীতিমালা আমাদের থাকতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে এটির একটি খসড়াও তৈরি করেছি। অনলাইন সংবাদ মাধ্যমও সমাজের জন্য ক্ষতিকর কিছু যাতে না করতে পারে সেজন্যও একটা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক ওয়েবসাইটগুলোর প্রকৃত সামাজিক সুবিধা গ্রহণে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়কে আরো তত্পর হওয়ার নির্দেশ দেন। শিল্পের উন্নয়নের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্রটাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সিনেমা হলগুলোকে ডিজিটাল করার সুযোগ করে দিতে হবে।
সাংবাদিকদের কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক সহায়তা ভাতা চালু করা হয়েছে। এজন্য একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। সভায় তথ্য সচিব মর্তুজা আহমদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।