সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার চাই

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ‘সেভেন মার্ডারে’র ঘটনায় গতকাল রবিবার নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউজে চতুর্থদিনের মতো গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন সাক্ষ্য দেন নারায়ণগঞ্জের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত না হলে অপরাধ আরো বাড়বে। গতকাল সাক্ষ্য দিয়েছেন সেভেন মার্ডারের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি পলাতক কাউন্সিলর নূর হোসেনের বান্ধবী হিসেবে পরিচিত সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা। সাক্ষ্য দিয়ে বের হওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তাছাড়া সুশীল সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোকজন এদিন তদন্ত কমিটির কাছে ঘটনার সাক্ষ্য দিয়েছেন। বিকাল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউজে গণশুনানি শুরু হয়, চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এতে ২৫ জন নাম অন্তর্ভুক্ত করলেও সাক্ষ্য দেন ১৭ জন। গণশুনানি চলাকালে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, নারায়ণগঞ্জ রাইফেল্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খালেদ হায়দার খান কাজল, সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীল, ইব্রাহিম চেঙ্গিস, পরিবহন নেতা মোক্তার হোসেন, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, নগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিকেএমইএ সহ-সভাপতি এম এ হাতেম, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মঞ্জুরুল হক, অপর পরিচালক জিএম ফারুক, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর সাহা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কমান্ডার গোপীনাথ দাসও গণশুনানির সময়ে উপস্থিত ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক বলেন, নারায়ণগঞ্জে এত বড় একটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। বিকেএমইএর সহ-সভাপতি এমএ হাতেম সাংবাদিকদের বলেন, এত বড় একটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে নারায়ণগঞ্জে আরো বড় ধরনের অশান্তকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। এজন্য এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর জান্নাতুল হাসান নীলা গণশুনানিতে সাক্ষ্য দিলেও সাংবাদিকদের সামনে কোনো কথা বলেননি। অভিযুক্ত র্যাব কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কী না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, তদন্তের স্বার্থে যাকে প্রয়োজন মনে হবে, তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর আগে সেভেন মার্ডারের ঘটনায় শনিবার তৃতীয় দিনের গণশুনানি সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার হাউসের গেস্ট হাউজে মোট ৩১০ সাক্ষী দিতে নাম নিবন্ধন করালেও ১৯৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে তদন্ত কমিটির কাছে গত ১০ মে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নিহত সাত পরিবারের ২৫ জন সদস্য সাক্ষ্য দেন। ১২ মে জেলা সার্কিট হাউসে প্রথম দফার গণশুনানিতে ৬ জন সাক্ষ্য দেন। ১৫ মে দ্বিতীয় দফার গণশুনানিতে ৯৮ জন নাম অন্তর্ভুক্তি করলেও সাক্ষ্য দেন ৭১ জন। নূর হোসেনের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী মামলা নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সাত খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেনের বাড়িতে আদালতের নির্দেশে অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করার সময়ে পাখি উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ নিয়ে সেভেন মার্ডারের পর নূর হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, অবৈধভাবে বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণের অভিযোগে গতকাল বিকালে গাজীপুর বন বিভাগের রেঞ্জার অফিসার রেঞ্জার মো. ফজলুল হক বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মানববন্ধন নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডারের পর এবার আরো দুইজন ব্যবসায়ীকে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে র্যাবের বিরুদ্ধে। রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের গেটে রূপগঞ্জের জমি ব্যবসায়ী ইমান হোসেন শওকত ও সোনারগাঁও এলাকার ক্লিনিক ব্যবসায়ী তাজুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধন করে এ হত্যার অভিযোগ করেন। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে র্যাবের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে মোট নয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হলো। এর আগে র্যাবের বিরুদ্ধে কাঁচপুর এলাকার যুবলীগ নেতা ইসমাইলকে অপহরণ এবং দুই কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ আনে তার পরিবার।