ঘরে আগুন দিয়ে শাশুড়িসহ ৪ জনকে পুড়িয়ে মারল জামাতা
প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৪, ২৩:১৪
ঘরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে শাশুড়ীসহ চার জনকে হত্যা করেছে জামাতা। গত শনিবার গভীর রাতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ডুমদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- মৃত দেলোয়ার গাজীর স্ত্রী ফুড়িয়া বেগম (৬৫), তার নাতি তামিম (৮), আমিনুর সরদার (১৩) ও নাতনী তনিমা (৫)।
গতকাল রবিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ থানা পুলিশ ঘাতক জামাতা আজাদ মোল্লাকে নড়াইল জেলার নড়াগতী থানার পুঠিমারী গ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে। আটক করা হয়েছে অভিযুক্ত আজাদের বাবা, ভাই, ভগ্নিপতিসহ ৮ জনকে।
আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ফরিদপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক সামসুদ্দোহাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কাজ শুরু করেছে।
এদিকে, গ্রেফতারকৃত আজাদ মোল্লা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি একাই ঘরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে চার জনকে পুড়িয়ে হত্যা করেছি। তিনি বলেন, তার স্ত্রী শরিফা বেগম পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত ছিলেন। তাকে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়ে আমি স্ত্রী ও শাশুড়ীকে হত্যার পরিকল্পনা করি।
তিনি বলেন, শনিবার রাতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাজীর বাজারের একটি দোকান থেকে কেরোসিন কিনে শ্বশুর বাড়ি গিয়ে আমার শাশুড়ী ও স্ত্রী যেখানে ঘুমায় সেখানে কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যাই। রাতে বাড়ির পাশের ফাঁকা একটি বিলে অবস্থান করি। সকালে মধুমতি নদী পাড় হয়ে নড়াইল জেলার যোগানিয়া গ্রামের আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেই। সেখান থেকে পালানোর সময় পুঠিমারী থেকে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে। আমি স্ত্রী ও শাশুড়ীকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম। আগুনে শিশুরা মারা যাওয়ায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।
নিহত তামিম ডুমদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে এবং আমিনুর সরদার মানিকহার হাই স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত।
পাইককান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনির গাজী জানিয়েছেন, শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে ফুড়িয়া বেগমের ঘরের দরজা বাইরে থেকে শিকল দিয়ে বন্ধ করে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ঘরে ঘুমিয়ে থাকা ফুড়িয়া বেগম, আমিনুর সর্দার ও তামিম দগ্ধ হয়ে ঘরেই মারা যায়। স্থানীয়রা অগ্নিদগ্ধ তনিমা ও রনি বেগমকে (শরিফার বোন) জানালা ভেঙ্গে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে তনিমার মৃত্যু হয়।
পুলিশসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আজাদ মোল্লার স্ত্রী শরিফা বেগম বলেন, ‘আজাদের সঙ্গে আমার মনোমালিন্য চলছিল অনেক দিন ধরে। আমি দুই ছেলেকে নিয়ে মায়ের সাথে ডুমদিয়া গ্রামে থাকতাম। আমার লম্পট প্রকৃতির স্বামী আমাকে প্রায়ই যন্ত্রণা দিত। দুই দিন আগে আমার কাছে থাকা দুই ছেলে সাব্বির ও বাপ্পীকে কৌশলে সে তার কাছে নিয়ে যায়। শনিবার সন্ধ্যায় আজাদ আমার মাকে মোবাইল ফোনে আগুনে বাড়িঘর জ্বালিয়ে সবাইকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেয়। রাতে আমি, আমার মা, বোন ও বোনের ছেলে-মেয়েরা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। গভীর রাতে আমাদের বাড়িতে আজাদ এসে বাইরে থেকে দরজায় শিকল লাগিয়ে আগুন দেয়।’
শরীফা বেগম বলেন, ‘আমার মা আগুন আগুন বলে চিত্কার দিলে আমি জানালা ভেঙ্গে বেড়িয়ে যাই। ঘরের মধ্যে থেকে সবাই দরজা দিয়ে বের হতে চেষ্টা করে; কিন্তু বাইরে থেকে শিকল দেয়ায় কেউ বের হতে পারেনি। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’