মেয়ের সাফল্যের খবর
জানা হলো না তার
সেনবাগ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৪, ২২:১৭
সৌদি আরবে রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হতভাগ্য বাংলাদেশি ৯ শ্রমিকের মধ্যে মো. জাকির হোসেন (৪৮) একজন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ রাজারামপুর গ্রামে। গত শনিবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জাকিরের বড় মেয়ে নাসরিন আক্তার জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী নাসরিন স্থানীয় সেবারহাট শের-ই-বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার রোল নং ১৫২৫৫৪। তার এই সাফল্য শোকে মুহ্যমান বাড়িতে কিছুটা শান্তনার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। জাকির হোসেন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন তার ছেলে মেয়েরা ভালভাবে লেখাপড়া করে একদিন মানুষের মত মানুষ হবে। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, নাসরিন আক্তার বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায়। তবে বাবার অনুপস্থিতিতে কিভাবে সে লেখাপড়া চালাবে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
বাড়ির লোকজন জানান, জাকির প্রবাসে থেকেও নিয়মিত টেলিফোনে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ খবর নিতেন। জানতে চাইতেন আদরের মেয়ে নাসরিনের পরীক্ষা কেমন হচ্ছে। দুর্ভাগ্য- মেয়ের সাফল্যের খবর জেনে যেতে পারলেন না তিনি। গত সোমবার রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মো. জাকির হোসেনের লাশের অপেক্ষায় দিন গুণছেন তার স্ত্রী হাসিনা বেগম, বৃদ্ধা মা তৈয়ুবের নেছা (৬৫) এবং তার দুই মেয়ে নাসরিন আক্তার (১৬) ও নাইমা আক্তার (৯)।