নান্দাইলে জালিয়াতির মাধ্যমে স্কুল জাতীয়করণের অভিযোগ

ময়মনসিংহের নান্দাইলে জালিয়াতির মাধ্যমে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোন তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাওয়া যায়নি। উপজেলা সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় ঘটনাটি প্রকাশ পায়। জানা গেছে, উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নের পন্ডিতপুর গ্রামে ২০০০ সালে এলজিইডি একটি পাকা ভবন নির্মাণ করে। ভবনটির জমিদাতা আব্দুল মান্নানের ছেলে মর্তুজ আলী জানান, তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকার ‘নিউ কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিলেও ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তন ঘটলে ওই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভবনটি ১২ বছর ধরে অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে থাকে। বিদ্যালয়টি চালু দেখানোর জন্যে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় গয়েশপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী মানসুরা ও ফাহিমাকে পন্ডিতপুর বিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রী দেখিয়ে শিক্ষা অফিসের একটি অসাধু চক্রের সহায়তায় প্রবেশপত্র ইস্যু করানো হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে দুই ছাত্রীর বিষয়ে গয়েশপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ করলে ও ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত হলে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু ওই তদন্ত রিপোর্ট আজও আলোর মুখ দেখেনি। গত ১০ মে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে একজন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়। ১১ মে দুটি শ্রেণীতে ৮-১০ শিক্ষার্থী পাওয়া যায়। কথিত বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আমিনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, গত তিন মাস আগে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জাতীয়করণের আবেদন জমা দিলে তা অনুমোদিত হয়। বিদ্যালয়ের আরেক জমিদাতা ফজলুর রহমান তাকে এবং তার মেয়ে ও পুত্রবধূকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. অহিদুল ইসলাম জানান, এ সংক্রান্ত কোন প্রজ্ঞাপন তার অফিসে আসেনি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ইমদাদুল হক বলেন, এ ধরনের কোন প্রস্তাব তার অফিস থেকে পাঠানো হয়নি।