তীব্র তাপে পুড়ছে রাজশাহী

রাজশাহী অঞ্চল জুড়ে বইছে তীব্র তাপদাহ। আগুনের মত উত্তপ্ত বাতাসের কারণে দুপুরের আগেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না মানুষ। প্রচণ্ড তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে প্রাণিকুলের হাঁসফাঁস অবস্থা। ফ্যানের নীচেও স্বস্তি মিলছে না। তার ওপর ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে উঠেছে ঘনঘন লোডশেডিং। টানা কয়েকদিনের তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। এদিকে প্রচণ্ড গরমে গত রবিবার জেলার দুর্গাপুর উপজেলার কিশমত গনকৈড় এলাকার মেছের আলী (৫০) হিটস্ট্রোকে মারা গেছেন। নিহতের আত্মীয় রহিদুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড গরমে তিনি কাটা ধান ঘরে তুলতে মাঠে যান। ৪০ মিনিট পর একবোঝা ধান মাথায় নিয়ে বাড়িতে আসার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান। অন্যদিকে গতকাল রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমলেও বেড়েছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৪ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের আবহাওয়া আরো কয়েক সপ্তাহ থাকতে পারে। আবহাওয়া অফিসের হিসেবে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে উঠলে তীব্র তাপপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয়। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, টানা কয়েক দিন তাপমাত্রা বেশি থাকায় দিনে তাপমাত্রা বাড়ছে। ভারী বৃষ্টি না হলে তাপমাত্রা কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমের পাশাপাশি কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এখানকার মানুষ। প্রচণ্ড গরমে লোডশেডিংয়ে থমকে গেছে মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্য। ভোগান্তি বেড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের। রাজশাহী বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম বলেন, এ মুহূর্তে নগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ ৭৬ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রীড থেকে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৬ মেগাওয়াট ঘাটতি লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে মেটানো হচ্ছে।। এদিকে প্রচণ্ড গরমে রাজশাহী অঞ্চলে বেড়েছে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা গরমে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, নিউমেনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের গরমজনিত কারণে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। অনাবৃষ্টির কবলে পীরগঞ্জ পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা জানান, গত ৭ মাস যাবত টানা অনাবৃষ্টির কারণে পীরগঞ্জ উপজেলায় মৌসুমি ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া উঠতি ইরি-বোরো ও ভুট্টাসহ শাক-সবজি ক্ষেতে অতিরিক্ত সেচ দিতে গিয়ে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পৌর শহরের কৃষক জাহিদুল ইসলাম, ভেলাতৈড় গ্রামের সইফুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, তাজপুরের মামুনূর রশিদ মামুন জানান, দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শ্যালো মেশিনে পানি উঠছে না। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, খরা পরিস্থিতির কারণে আম, কাঁঠাল, লিচু প্রভৃতি মৌসুমি ফল অকালে ঝরে পড়ছে। মেহেরপুরে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, গ্রীষ্মের শুরু থেকে খরতাপ বাড়লেও বৃষ্টির দেখা নেই। তাই বৃষ্টির আশায় মেহেরপুরের মানুষ ‘এস্তেস্কার’ নামাজ আদায় করেছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে মেহেরপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শত শত মুসল্লি নামাজে অংশগ্রহণ করেন। ইমামতি করেন মেহেরপুর পৌর ঈমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা জহিরুল ইসলাম। নামাজ শেষে আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে বৃষ্টি কামনা করা হয়।