এসএসসির ফল

প্রত্যাশার চেয়েও বেশি

যেভাবে বেড়েছে জিপিএ-৫ সাল জিপিএ-৫ ২০০১ : ৭৬ জন ২০০২ : ৩২৭ জন ২০০৩ : ১ হাজার ৩৮৯ জন ২০০৪ : ৮ হাজার ৫৯৭ জন ২০০৫ : ১৫ হাজার ৬৩১ জন ২০০৬ : ২৪ হাজার ৩৮৪ জন ২০০৭ : ২৫ হাজার ৭৩২ জন ২০০৮ : ৪১ হাজার ৯১৭ জন ২০০৯ : ৪৫ হাজার ৯৩৪ জন ২০১০ : ৬২ হাজার ১৩৪ জন ২০১১ : ৬২ হাজার ২৮৮ জন ২০১২ : ৮২ হাজার ২০১২ জন ২০১৩ : ৯১ হাজার ২২৬ জন ২০১৪ : ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন মিরপুরের একটি বেসরকারি স্কুলের ছাত্র সায়েম। স্কুলের কোন পরীক্ষাতেই সে ভালো করতে পারেনি। বাবা মায়ের শঙ্কা, স্কুলের শিক্ষকদের শঙ্কা-এসএসসিতে সে হয়তো অকৃতকার্য হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষও এসএসসিতে অংশ নিতে আপত্তি দিলেও বিভিন্ন মহলের অনুরোধে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অনুমতি দেয়। সায়েম এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে। রূপনগরের একটি প্রতিষ্ঠানের এক ছাত্রী সায়লা (ছদ্ম নাম)। এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় ৭ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। বিভিন্ন মহলের অনুরোধে তাকেও পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ করে দেন প্রতিষ্ঠান প্রধান। সবারই ধারণা ছিল শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হবেই। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, ভালো জিপিএ নিয়েই পাস করেছে। দনিয়ার একটি স্কুল। ১ হাজার পরীক্ষা দিয়ে সাড়ে ৭শ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানের বক্তব্য এত জিপিএ-৫ পাবো এটা আশাও করতে পারিনি। প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পেয়েছি। এভাবে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পেয়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্কুলগুলো। জিপিএ ৫ যেন হাতের নাগালেই। গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফল প্রকাশের শুরুর বছর ২০০১ সালে যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭৬ জন। এবার সেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছে প্রায় দেড় লাখ। রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম জানান, এ বছর আমাদের প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট বেড়েছে। জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও বেড়েছে। শতভাগ পাস করেছে। ফল প্রকাশের দিন প্রচণ্ড গরম আর রোদকে উপেক্ষা করে ঘেমে নেয়ে পরম আনন্দে সফল হওয়ার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। হাসিভরা মুখ নিয়ে একজন অন্যজনকে জরিয়ে ধরছে। প্রশ্ন করে জেনে নেয় বন্ধুও জিপিএ পাঁচ পেয়েছে কিনা। হ্যাঁ সেও জিপিএ-৫ পেয়েছে। জানার সাথে সাথে আনন্দ চিত্কার প্রতিধ্বনিত হয় মাঠের একপাশ থেকে অন্যপাশ। এবার রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে ৯৬ ভাগেরও বেশি শিক্ষার্থী পাস করেছে। এত বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী এই জেলায় পাস করবে তা ভাবতে পারেনি শিক্ষকরা ও বোর্ড কর্মকর্তারা। সব পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে এমন শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া কঠিন বলে দাবি করেছেন শিক্ষকরা। গত জেএসসিতে পাসের হার শতকরা ৮৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সাধারণত জেএসসির চেয়ে এসএসসিতে পাসের হার কম হয়। অতীতেও এমনটি হয়েছে। কিন্তু এবার হয়েছে ঠিক উল্টো। জেএসসির চেয়েও এসএসসিতে পাসের হার বেশি। বেশি পাস করায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও বেড়েছে। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, শিক্ষার্থীদের এই আনন্দের ভাগ শিক্ষক হিসেবে আমারও। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা বেশি হারে পাস করুক, একই সঙ্গে শিক্ষার প্রকৃত মান অর্জন করুক। তিনি বলেন, শিক্ষার মান বাড়াতে গেলে শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাসের হার বেশি হওয়ায় সমালোচনাও কম হয়নি। শিক্ষাবিদরা বলেছেন, যেভাবে পাসের হার বেড়েছে সেভাবে শিক্ষার মান বাড়েনি। পাসের হার বৃদ্ধির চেয়ে শিক্ষার মান বাড়ানোর দিকে সরকারের নজর দিতে হবে।