ঢাবির দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ

দুর্যোগ ঠেকানোর পাঠ

ভৌগোলিক অবস্থান, বৈশ্বিক উষ্ণতা, জলবায়ু পরিবর্তন আর ঋতুর পালাবদলের খেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন আমাদের নিত্যসঙ্গী। বছরের যে কোনো সময়ই আমাদের সাজানো-গোছানো সংসারটাকে এলোমেলো করে দিয়ে যেতে পারে দুর্যোগের ঝাপটা। পেছনে ফিরে তাকালে স্মৃতিতে ভেসে ওঠে বড় বড় বন্যা, সিডর-আইলার মতো প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবের চিত্র। জলবায়ু পরিবর্তন থেকে সৃষ্ট দুর্যোগেও বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো। ফলে সভা, সেমিনার, সংলাপ, বক্তৃতা, মানববন্ধন থেকে সংবাদপত্রের পাতা সর্বত্রই এসবের জয়জয়কার। এর ধারাবাহিকতায় প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বিষয় হিসেবেও আমাদের দেশে শুরু হয়েছে এর যাত্রা। বিজ্ঞানের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকবিলায় উপযুক্ত জনসম্পদ গড়তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ। আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের অধিভুক্ত এ বিভাগে ইতোমধ্যে স্নাতক পর্যায়ের দু’টি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। কার্জন হল এলাকায় ভূতত্ত্ব ভবনের দ্বিতীয়তলায় বিভাগের দাপ্তরিক ও ক্লাসের কার্যক্রম চলছে। শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি প্রায়োগিক শিক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ রয়েছে আধুনিক গবেষণাগার। কথা হয় বিভাগের ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফা, নাজমা, তনয়, আরিফ, জিনাত, নাফিস আর তিলোত্তমার সঙ্গে। তারা বলেন, ‘বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেও আমরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত। তাই আমরা নিজেরাই এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় উপযুক্ত হয়ে উঠতে চাই। আগামীর চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষায় এক একজন কারিগর হতে চাই।’ নিরাপদ ও সবুজ পৃথিবী গড়ার স্বপ্নের কথা শোনা গেল ২য় ব্যাচের বন্ধুদের কণ্ঠেও। ‘নতুন কিছু করার সাহসে বিভোর আমরা তরুণ প্রজন্ম। নিজেদের অস্তিত্বের প্রয়োজনেই রক্ষা করতে হবে আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশ। সম্ভাব্য বিপদ থেকে বাঁচতে চাই উপযুক্ত প্রস্তুতি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তাই আমরা বুনে যাই সবুজ-শ্যামলিমায় ভরা একটি নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন। এমন আশার কথাই জানালেন শুভ, তারেক, দোলা, রুপা, তানজিম আর রেহনুমারা। সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন ও বিভাগটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও দক্ষ জনগোষ্ঠী। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জ্ঞানকে একত্র করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক চাহিদা ও বাস্তবতার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার লক্ষ্যে আমরা এ বিভাগ চালু করেছি।’ তিনি জানান, বিশ্বের ৩০টি দেশের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতামত নিয়ে বিভাগের সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ৪ বছর মেয়াদী স্নাতক কোর্সে দু’টি ব্যাচে ৬৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এছাড়া এ বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রিও দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ৪ জন শিক্ষার্থী পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণা করছেন।