দখলের কবলে রাণীনগরের
মুক্ত জলাশয় ও নদী তীর
রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২০ মে ২০১৪, ২১:৪৯
নওগাঁর রাণীনগরে দখলদারদের কবলে পড়ে হারিয়ে যাচ্ছে মুক্ত জলাশয়, পুকুর এবং খাল-বিলের নালা ও নদীর তীর। দখলদারদের দখলক্ষুধার খাদ্য হিসাবে পরিণত হয়েছে গ্রাম-বাংলার চিরচেনা ছোট ছোট মুক্ত জলাশয়গুলো। পুকুর ও মুক্ত জলাশয় এখন শুধু নানি-দাদিদের কাল্পনিক গল্পতে পরিণত হয়েছে। ভূমি ও প্রশাসন কৃর্তপক্ষের নজর না থাকায় ও অবহেলায় কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সরেজমিন উপজেলা ঘুরে ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছোট ছোট পুকুর ও মুক্ত জলাশয়গুলো মাত্র কয়েক বছর আগেও দখলমুক্ত ছিল। যেখানে গ্রাম-বাংলার মানুষ বছরের নির্দিষ্ট একটি দিনে সারা গ্রামে ঢোল পিটিয়ে সবাই একসাথে উত্সমুখর পরিবেশে মাছ ধরত। আর এটাই গ্রাম-বাংলার মানুষের কাছে ছিল অন্যতম একটি ঐতিহ্য। এলাকার অনেকেই জানান, দখলদারের বাড়ির পার্শ্বে অথবা জমির পার্শ্বে যদি কোন ছোট মুক্ত জলাশয় অথবা খাল-বিলের নালা ও নদীর তীর থাকে তাহলেই সেটা মাটি দিয়ে ভরাট করে নিজের জায়গা হিসাবে বাড়িয়ে নিচ্ছে দখলদাররা।
সরকারি কোন বিধি-বিধান, নিয়ম-কানুন, কাগজপত্র ছাড়াই এবং ভূমি অফিসের কোন নির্দেশ ছাড়াই দখল করা হচ্ছে এসব সরকারি মুক্ত জলাশয়। রাণীনগর উপজেলার বদ্ধ জলাশয়গুলো বছরের নির্দিষ্ট একটি সময় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দিয়ে থাকে সরকার। আর ছোট মুক্ত জলাশয় ও পুকুরগুলো গ্রামের সাধারণ মানুষের এবং মসজিদ-মাদ্রাসার ব্যবহারের জন্য সরকারি নীতিমালার মাধ্যমে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করছেন স্থানীয় দখলদাররা। বর্তমানে উপজেলায় পুকুর ও মুক্ত জলাশয় চোখে পড়া ভাগ্যের ব্যাপার। দখলদাররা সরকারের রাজস্ব ও গ্রামের সাধারণ মানুষের ঐতিহ্য গ্রাস করার মহোত্সবে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে বলে জানালেন এলাকাবাসি। এব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম পাটওয়ারী জানান, উপজেলার সবগুলো বদ্ধ জলাশয় এবং একটি মুক্ত জলাশয় প্রতিবছর ইজারা দেয়া হয়। আর ছোট ছোট পুকুর ও মুক্ত জলাশয়গুলো সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য এবং মসজিদ-মাদ্রাসার ব্যবহারের জন্য সরকারি নীতিমালার মাধ্যমে উন্মুক্ত করে দেয়া আছে। সে গুলো দখলের কোন সুযোগ নাই।