চিংড়ি পোনা ধরতে গিয়ে অন্য মাছ ধ্বংস!

নোয়াখালীর উপকূলীয় মেঘনা নদী ও সাগর সৈকত থেকে অপরিকল্পিতভাবে চিংড়ি পোনা আহরণ করার ফলে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মত্স্য, ছোট ছোট জলজ প্রাণী ও সমুদ্রের নানাবিধ সম্পদের ভান্ডার দিন দিন নিঃশেষ হচ্ছে। হাতিয়া, বয়ার চর ও নিঝুমদ্বীপ সংলগ্ন মেঘনা নদীর মোহনা ও সাগর সৈকত ঘুরে দেখা যায়, সূক্ষ্ম মশারি জাল দিয়ে অবাধে বাগদা ও গলদা চিংড়ির পোনা আহরণ চলছে। হাতিয়া উপজেলার আওতাভুক্ত এলাকায় বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার পোনা ধরার জাল ছড়িয়ে আছে। প্রতি শ’ পোনা ৪০ টাকায় বিক্রি করা হয়। চিংড়ি পোনা ধরার জন্য মশারি জাল নদীতে বিছিয়ে রাখা হয়। মশারি জাল দিয়ে প্রতিটি চিংড়ি পোনা তুলতে গিয়ে পোনা শিকারীরা গড়ে ৫০টি করে অন্যান্য মাছের পোনা নষ্ট করছে। এ হিসেবে একজন পোনা শিকারী প্রতিদিন ২০০টি চিংড়ি পোনা ধরতে গিয়ে ১০ হাজার অন্যান্য মাছের পোনা নষ্ট করছে। এভাবে ১৫ হাজার শিকারী প্রতিদিন হাতিয়া উপকূলের ১ কোটি ৫০ লাখ অন্যান্য মূল্যবান মাছের পোনা ধ্বংস করছে। বেসরকারি একটি জরিপে জানা যায়, হাতিয়া উপকূলে চিংড়ি পোনা শিকারীরা প্রতিদিন ১৬৫ মণ ওজনের অন্যান্য প্রজাতির মত্স্য রেণু এবং পোনা ধ্বংস করছে। একদিনে যে পোনা নষ্ট হয় তা যদি এক বছর পর্যন্ত নদীতে রাখা সম্ভব হতো তাহলে ঐ মাছের মূল্য দাঁড়াতো প্রায় ৩ শত কোটি টাকা। নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিদিনই পোনা আহরণকারীর সংখ্যা বাড়ছে। চিংড়ির মধ্যে বাগদা আর গলদা এই দুই জাতের চিংড়ি পোনার চাহিদা প্রচুর। তবে বাগদার চাহিদা অপেক্ষাকৃত বেশি। সহজে এই পোনার ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে গড়ে উঠেছে এর বিরাট নেটওয়ার্ক। অসংখ্য আড়তদার বসে গেছে দাদনের টোপ নিয়ে। তারা ৮/১০ বছর বয়সী বাচ্চাদের হাতে দাদন হিসেবে তুলে দিয়েছে মশারি জাল। কয়েকজন ছেলে জানায়, তারা স্কুলে যায় না, পোনা ধরে। এর কারণ জানতে চাইলে তারা জানায়, একদিন পোনা ধরে যে আয় হয় তা দিয়ে তাদের সংসার চলে। আড়তদাররা হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে চিংড়ির পোনা সংগ্রহ করে বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান দেয়। পোনা শিকারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একবার জাল উঠিয়ে মাত্র ১/২ টি গলদা বা বাগদা পোনা পাওয়া যায়। কিন্তু জালের তলানিতে আটকে থাকা অন্যান্য প্রজাতির শত শত পোনা মাছ শুকনো মাটিতে ফেলে দেয়া হচ্ছে। এভাবেই নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক মত্স্য সম্পদের একটা বড় অংশ নষ্ট হচ্ছে।