খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস চালুর তত্পরতা

দীর্ঘ একযুগ পর ঐতিহ্যবাহী ‘খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল্স’ চালু করার জন্য তত্পরতা শুরু হয়েছে। এ জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়, বিসিআইসি ও খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস্ কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় চিঠি চালাচালি করছে। মিল কর্তৃপক্ষের ফিজিবিলিটি রিপোর্টে এ কাগজ কল চালু করতে গ্যাস সরবরাহের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মিলটি উত্পাদন উপযোগী করতে ৮শ’ কোটি টাকার মূলধন প্রয়োজন হবে। বিগত ২০১১ সালের ৫ মার্চ নগরীর খালিশপুরে এক শ্রমিক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এ মিল চালু করার ঘোষণা দেন। এর আগে ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর তত্কালীন জোট সরকারের আমলে মিলের উত্পাদনের চাকা বন্ধ হয়ে যায়। মিলটি চালুর দাবিতে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি ও খুলনা উন্নয়ন ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। দশম সংসদ নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এশিয়ার বৃহত্তম এ কাগজ কল চালু করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে দফায় দফায় দাবি জানিয়ে আসছেন। তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় বন্ধকৃত মিলের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে নিউজপ্রিন্ট মিল কর্তৃপক্ষের নিকট দাপ্তরিক চিঠি পাঠায়। মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রুহুল আমিন জানান, সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে গত ৩১ মার্চ বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) কাছে ফিজিবিলিটি রিপোর্ট পাঠানো হয়। এতে মিলের উত্পাদন ব্যয় কমাতে গ্যাস সংযোগ প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। তার দেয়া তথ্য মতে, বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ এ মিল চালু করতে ডেভলপমেন্ট প্রোজেক্ট প্ল্যান তৈরি করছে। মিলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন ধরে মিলের যন্ত্রপাতি ব্যবহূত না হওয়ায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনি ও সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস এ মিল চালু করার জন্য খুলনাবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, ১৯৫৭-৫৮ সালে নগরীর খালিশপুরের ভৈরব নদীর তীরে ১০৩ একর জমির ওপর ৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলটি’ প্রতিষ্ঠিত হয়। বছরে ৪৮ হাজার মেট্রিক টন উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ১৯৫৯ সালে মিলের যাত্রা শুরু হয়। মিলটি বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের কাছে ১২৭ কোটি টাকা, সুন্দরবন বিভাগের কাছে ৪৪৩ কোটি টাকা ও বিসিআইসি কর্তৃপক্ষের কাছে ২৫০ কোটি টাকা দেনা রয়েছে। মিলটি বন্ধ হওয়ার পর থেকে এখানকার সম্পদ পাহারা দেয়ার জন্য ৩৮ জন কর্মচারীর বেতন ও বিদ্যুত্ বিল বাবদ মাসে ৫ লাখ টাকা গুণতে হয়।