কেন বার বার লঞ্চ দুর্ঘটনা

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, প্রতিটি লঞ্চ দুর্ঘটনার পর দুর্ঘটনার কারণগুলো তদন্ত কমিটির রিপোর্টে তুলে ধরা হয় কিন্তু প্রতিকারের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। বর্ষা মৌসুম এলে লঞ্চ দুর্ঘটনা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়। প্রশিক্ষিত চালক ও নৌ চলাচলে সতর্কতা না থাকার কারণে প্রায়ই লঞ্চডুবিতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। যেসব লঞ্চ নিয়মিত যাত্রী বহন করে দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়; সেই লঞ্চগুলোর বেশিরভাগই যাত্রী বহনের অনুপযোগী। ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলোর কারণ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রাকৃতিক বা আবহাওয়াজনিত দুর্ঘটনার তুলনায় মানুষের কারণে দুর্ঘটনাও কম নয়। ত্রুটিপূর্ণ নৌযান, অদক্ষ মাস্টার, ড্রাইভার, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বেশিরভাগ লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটে। নদীপথে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য লাইফ বয়া, ফায়ার বাকেট, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, বালুভর্তি বাক্স ও বালতি এবং হস্তচালিত পানির পাম্পের ব্যবস্থা রাখা অপরিহার্য। এ ব্যাপারে প্রতিটি লঞ্চের যাত্রী ধারণের ক্ষমতা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বাধ্যতামূলকভাবে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর এ নৌযানগুলোতে জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম রাখার নির্দেশ দিলেও তা তোয়াক্কা করছেন না লঞ্চ মালিকরা। এছাড়াও নিরাপদ নৌপথ ব্যবস্থাপনার জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও তার অধীন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। যাত্রীদের জন্য জনসচেতনতামূলক কোনো প্রচারণাও নেই তাদের। শুধুমাত্র ঈদের সময় সামান্য কিছু পোস্টারিং ও মাইকিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে প্রচারণা। ঢাকা-চাঁদপুর-বরিশাল রুটে মাত্র চারদিনের মধ্যে দুটি লঞ্চডুবিকে নিছক দুর্ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেন বারবার লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটছে, কেন লঞ্চযাত্রীদের অসহায়ভাবে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে—এর সুরাহা হওয়া উচিত। ঢাকা