২৬ মে শপথ নেবেন মোদী
অঞ্জন রায় চৌধুরী, নয়াদিল্লি থেকে
প্রকাশ : ২০ মে ২০১৪, ২২:৫৪
ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু তার আগেই যেন আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেললেন মোদী। ভারতের জনগনের ভোটকে ‘নতুন আশা এবং আকাঙ্খার ভোট’ উল্লেখ করে নিজেকে গরীবের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও মন্তব্য করেন। আগামী ২৬ মে তার শপথের দিন নির্ধারিত হয়েছে। গতকাল বিজেপি’র সংসদীয় দলের সভায় বিজেপি এবং এনডিএ’র নেতা হিসেবে মোদীকে নির্বাচিত করেন সংসদ সদস্যরা।
সংসদীয় দলের সভায় নেতা হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর নাম প্রস্তাব করেন বিজেপি’র প্রতিষ্ঠাতা নেতা এল কে আদভানি। আর তাকে নেতা হিসেবে ঘোষণা দেন দলের সভাপতি রাজনাথ সিং। মোদী দলের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিশেষ করে এলকে আদভানি এবং রাজনাথ সিংয়ের প্রতি। সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার মোদীর নেতৃত্বে এনডিএ’র ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। সাক্ষাতে ২৬ মে সন্ধ্যা ৬টায় শপথের তারিখের কথা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি মোদীকে অভিনন্দন জানান এবং তার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগপত্র প্রদান করেন।
ভারতীয় পার্লামেন্টের ঐতিহাসিক সেন্ট্রাল হলে আয়োজিত সংসদীয় দলের সভায় মোদী বলেন, গত কংগ্রেস সরকার কিছুই করেনি একথা আমি বিশ্বাস করিনা। তারা যা পেরেছে তাই করেছে। তাদের ভাল কাজগুলোর প্রশংসা করি আমি। নিজের জন্য নয়, জাতির জন্য কাজ করবো উল্লেখ করে মোদী বলেন, আমি গরীব তথা জাতির জন্য বাঁচতে চাই এবং এই সরকার হবে গরীবের সরকার। জনগনের এই রায় সারা বিশ্বে ভারতের গণতন্ত্রের শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরেছে বলে জানান মোদী। কোনো ব্যক্তি দলের চেয়ে বড় হতে পারেনা বলেও মন্তব্য করেন মোদী। বিশ্বের বৃহত্ গণতান্ত্রিক দেশের আগামীর কর্তা পার্লামেন্টকে গণতন্ত্রের মন্দির উল্লেখ করে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজ আপনাদের সামনে একজন গরীব মানুষের সন্তান হিসেবে দাঁড়িয়ে আছি। গণতন্ত্রের জন্য এটাই শক্তি। তিনি ক্ষমতার শেষে ২০১৯ সালে তার কাজের প্রতিবেদন পেশ করার কথা সংসদ সদস্যদের জানান। এই সেই মোদী যিনি গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর বিজেপি থেকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে মাঠে নামেন।
৬৩ বছর বয়সী মোদী বলেন, মা কি কিছু পাওয়ার জন্য তার সন্তানের সেবা করেন? ঠিক তেমনি একজন সন্তানও তার মায়ের (ভারত) সেবায় নিজেকে উত্সর্গ করেন। তিনি নিজেকে একজন আশাবাদী মানুষ হিসেবে জানান। আর একজন আশাবাদী মানুষই দেশে আশার সৃষ্টি করতে পারে। সভায় এলকে আদভানি বলেন, এটা সেই স্থান যেখানে স্বাধীনতার পর আমরা প্রথম একত্র হয়েছিলাম। বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, রাজনাথ সিং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, অরুণ জেটলি অর্থমন্ত্রণালয় এবং আদভানি স্পিকারের দায়িত্ব পেতে পারেন।