কোস্টগার্ড-পাচারকারী গুলি বিনিময়, আহত ৪

সেন্ট মার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরে গতকাল মঙ্গলবার কোস্টগার্ড-মানবপাচারকারিদের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় এক কোস্টগার্ড সদস্যসহ চারজন আহত হয়েছেন। এ সময় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে দুটি ট্রলারসহ ৬৬ জনকে আটক করেছেন কোস্টগার্ড সদস্যরা। আটককৃতদের মধ্যে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের চারজন দালাল ও মিয়ানমারের আটজন মাঝিমাল্লা রয়েছে। কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, গোপন সংবাদ পেয়ে কোস্টগার্ড গতকাল সকালে টেকনাফ স্টেশনের লে. কাজী হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে দুটি স্পিডবোট সেন্ট মার্টিনের পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গোপসাগরে ভাসমান অবস্থায় দুটি ট্রলারকে দেখতে পেয়ে কাছাকাছি গেলে ট্রলার দুটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদের থামানোর সংকেত দিলে ট্রলার থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ও (সিসা গোলা) তীর নিক্ষেপ করলে কোস্টগার্ডের পেটি অফিসার হাসান আহত হন। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে ৭/৮ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এর মধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। তারা হলেন টো ও, মাই মে ও ছে। আটক চার দালাল হলেন টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের খুরেরমুখ এলাকার জাবেদ হোসেন, গুরা মিয়া, মো. আনোয়ার ও কোয়াইনছড়িপাড়া এলাকার মো. শাহীন। এ সময় ৬৬ জন মালয়েশিয়াগামী যাত্রীকে আটক করা হয়। আটক হওয়া যাত্রীদের মধ্যে দু’জন মিয়ানমারের নাগরিক ও অন্যরা বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, নরসিংদী, বি-বাড়ীয়া, বগুড়া, যশোর, পাবনা, কুমিল্লা ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। কাজী হারুনুর রশিদ বলেন, আহত কোস্টগার্ড সদস্য হাসান ও তিন পাচারকারিকে স্পিডবোটে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনা হলে শুধু হাসানকে ভর্তি করা হয়। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জরুরী বিভাগের চিকিত্সক টিটু চন্দ শীল জানান, গুলিবিদ্ধ তিন পাচারকারিকে উন্নত চিকিত্সার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (তদন্ত) দিদারুল ফেরদৌস সন্ধ্যায় বলেন, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে দুটি ট্রলারসহ ৬৬ জনকে আটক করার খবর পেয়েছি। কিন্তু এখনো তাদের পুলিশে হস্তান্তর করা হয়নি।