বাঘায় আমে মাছির আক্রমণ দিশেহারা চাষীরা

আম প্রধান অঞ্চল হিসাবে পরিচিত রাজশাহীর বাঘা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আম বাগানে হঠাত্ করে আম মাছির আক্রমণ বেড়েছে। কোন-কিছুতেই মাছির আক্রমণ ঠেকাতে না পেরে দিশেহারা চাষীরা। উপজেলা কৃষি বিভাগের লোকজন বলছেন, প্রচণ্ড গরমের সময় এই মাছি বংশ বৃদ্ধি করে। যার কারণে এগুলো আমে আক্রমণ চালাচ্ছে। এ বছর অনাবৃষ্টির কারণে এমনিতেই আমের মুকুল শুকিয়ে ঝরে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার উপর এখন হঠাত্ বাগানে আম মাছির হানায় আম মাটিতে ঝরে পড়ছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এ অঞ্চলের চাষীরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আম চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর অনাবৃষ্টির কারণে মুকুল ঝরে যাওয়ায় এমনিতে আম কম ধরেছে। তার উপর গত এক সপ্তাহ ধরে আম মাছির আক্রমণে আম ফুটো হয়ে রস বের হচ্ছে। এরপর দু’-একদিন পর সেই আম মাটিতে ঝরে পড়ছে। এদিকে আম ঝরে পড়া ও মাছির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে নিরলসভাবে আমে স্প্রে করাসহ বাগানের পরিচর্যা করে চলেছেন এ অঞ্চলের চাষীরা। উপজেলার আমোদপুর গ্রামের চাষী জামাল উদ্দিন জানান, তার প্রতিটি বাগানে আম মাছির আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ জন্য তিনি নিয়মিত গাছে কিটনাশক স্প্রে করাসহ বাগানের পরিচর্যা করছেন। এতেও যদি পোকার উপদ্রব না কমে তাহলে অত্র এলাকার সব চাষীই এবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল ইসলাম জানান, বর্তমানে তপ্ত আবহাওয়ার কারণে আম মাছি আক্রমণ করছে। এই মাছি প্রথমে আমের মধ্যে গিয়ে ডিম পাড়ছে। এরপর সেই ডিম থেকে বাচ্চা বড় হওয়ার পরক্ষণে আম মাটিতে ঝরে পড়ছে। এ জন্য তিনি কৃষকদের নানা রকম পরামর্শ দিচ্ছেন। তার মতে, বর্তমানে বাঘার চরাঞ্চলসহ পুরো উপজেলায় প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এখানে খাদ্যশস্যের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে আমই প্রধান। প্রতিবছর এ অঞ্চলের কৃষকরা শুধু আম বিক্রি করে ঘরে তোলেন ৪ থেকে ৫শ’ কোটি টাকা।