সচিবের প্লট দুর্নীতিতে রাজউকের ৩ জনকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের (বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব) বিরুদ্ধে প্লট দুর্নীতি মামলার তদন্তে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সদস্যসহ তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুদক কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। দুদকের তিন মামলার একমাত্র আসামি সচিব খোন্দকার শওকত হোসেনকে গতকাল ২০ মে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠিয়েছিল দুদক। তবে তিনি বিদেশে থাকার কারণে তার জিজ্ঞাসাবাদ হয়নি। তাকে আগামী ২৫ মে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে। গতকাল যে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তারা হলেন— রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সদস্য মো. নাজমুল হাই, সহকারী পরিচালক মো. হাফিজ ও আবুল বাশার। দুদক সূত্র জানায়, শওকত হোসেন ২০০১ সালের দিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকাকালীন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে নিজ নামে এবং মা ও স্ত্রীর নামে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ করিয়ে নেন। বিধি-বিধান না থাকা সত্ত্বেও তিনি রাজউক থেকে প্রাপ্ত প্লটের আয়তন বৃদ্ধি করেন। মামলার বিষয়ে এজাহার সূত্রে জানা যায়, শওকত হোসেন ২০০১ সালে উত্তরা প্রকল্পে নিজের নামে তিন কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন। সেটাকে অনিয়মের মাধ্যমে পাঁচ কাঠায় রূপান্তর করেন। পরে সেখান থেকে দুই কাঠা বিক্রি করে দেন। কিন্তু ওই জমি ডেভেলপমেন্টের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়ার সময় পুরো পাঁচ কাঠার ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ প্রদান করেন। এ অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপর মামলার এজহারে বলা হয়, পূর্বাচল প্রকল্পে ২০০৪ সালে শওকত হোসেন তার স্ত্রী ড. আয়েশা খানমের নামে সাড়ে সাত কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন। পরে সেটাকে ১০ কাঠা এবং আরো পরে সাড়ে ১২ কাঠায় উন্নীত করেন। অন্য মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়, একইভাবে রাজউকের উত্তরা আবাসিক প্রকল্পে জালিয়াতি করে সচিব তার মায়ের নামে নেন তিন কাঠার প্লট। পরে সেটাকে পাঁচ কাঠায় উন্নীত করেন তিনি।