নিভৃত স্বপ্ন আবর্তে
প্রকাশ : ২১ মে ২০১৪, ২০:১০
শোবিজ জগতে তার পথচলা দীর্ঘ সময়ের। শুধু মডেলিং ও অভিনয় নয়, উপস্থাপনাতেও ফারাহ রুমা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ছোটপর্দায় প্রথম অভিনয় করেন ২০০১ সালে আফজাল হোসেনের বিপরীতে টেলিফিল্ম ‘সাঁকো’তে। পরবর্তীতে অভিনয় করেন অসংখ্য মানসম্পন্ন নাটকে। প্রতিভাময়ী এই অভিনেত্রীকে নিয়ে লিখেছেন
খালেদ আহমেদ
অভিনয়কে ভালোবাসেন যারা, তাদের সবারই একটা স্বপ্ন থাকে—একদিন চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন। তেমনি স্বপ্ন ছিল ফারাহ রুমার মনেও। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতেই তিনি রুপালি পর্দায় নাম লিখিয়েছেন। তবে কিছুটা সময় নিয়ে নিজেকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মতো যোগ্য করে তুলেন। অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরু থেকে তিনি নিজের একটা দর্শন মেনে পথ চলছেন। আর তা হলো অনেক বেশি কাজ করার চেয়ে একটু কম কাজ করবেন। সংখ্যার চেয়ে তিনি কাজের মানের দিকে বেশি নজর দেন। এর ফলে কাজ নিয়ে কখনও তার মাঝে কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। ফারাহ রুমার ভাষ্যে, ‘আমি কখনও এমনটি চাইনি যে, আমাকে অনেক অনেক নাটকে অভিনয় করতে হবে, সবসময় টিভিপর্দায় নিজেকে দেখতে হবে—এই ভাবনা আমাকে কখনও তাড়া করেনি। আমি আসলে নিজেকে দেখতে চেয়েছি ভালো কাজের একজন অভিনেত্রী হিসেবে।’ অভিনয় ও মডেলিং দুই এরিনাতে কাজ করে সফল হয়েছেন ফারাহ রুমা। কাজের প্রতি শ্রদ্ধা আর সময়ের ব্যাপারে তার সচেতনতাই তাকে এতদূর নিয়ে এসেছে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে নাটকের কোনো স্ক্রিপ্ট হাতে এলে তখন কাজটা নিয়ে স্বপ্ন কেমন থাকে জানতে চাইলে ফারাহ রুমা বলেন, ‘নতুন কাজ হাতে এলে অবশ্যই তা নিয়ে একটা স্বপ্ন তৈরি হয়। তবে আমাদের দেশে মিডিয়ায় নিজের মতো করে কাজ করতে চাইলেও তা সম্ভব হয় না। তারপরও চরিত্র নিয়ে ভাবি। শুটিংয়ের সময় চরিত্রটা নিজের মধ্যে লালন করে ভালো কিছু করার চেষ্টা করি।’ রুমা অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো—‘সম্পূর্ণ রঙিন’, ‘অনুরাগ’, ‘শ্যাওলা’, ‘প্রত্ননারী’, ‘সিন্ধুক’, ‘নগরে দৈত্য’, ‘বায়োস্কোপ’, ‘শুভদৃষ্টি’, ‘নদিয়া’, ‘ফ্রেমে বাঁধানো ফ্রেম’, ‘সম্পূর্ণ রঙিন’, ‘৭৩ নম্বর’, ‘একটা কিনলে একটা ফ্রি’, ‘পথ জানা নেই’, ‘অহংকার’ প্রভৃতি। ঈদের জন্য নির্মিত ‘নিভৃত স্বপ্ন আবর্তে’ শিরোনামের এক খণ্ডের নাটকে এরইমধ্যে অভিনয় করলেন তিনি। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, রিনি ও সাইফ সুখী দম্পতিই বলা চলে। তবে দুঃখ তাদের একটাই তাদের ঘরে সন্তান নেই। সাইফ কোনোদিনই বাবা হতে পারবেন না—এটা তিনি জানেন। আর স্ত্রী রিনিকে এই বিষয়টি জানান দিতে গিয়েই সাইফ তার ভালোলাগার একটি স্থানে স্ত্রী রিনিকে নিয়ে যান। ঘটে ভিন্ন এক ঘটনা। ইউসুফ আলী খোকনের রচনা ও জুবায়ের ইবনে বকরের পরিচালনায় এই নাটকেই রিনি চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুমা। আর তার স্বামী সাইফ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শতাব্দী ওয়াদুদ। কেমন লেগেছে এ নাটকে অভিনয় করতে? জবাবে ফারাহ্ রুমা বলেন, ‘শতাব্দী ওয়াদুদের সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। তিনি অত্যন্ত গুণী একজন অভিনেতা সেইসাথে ভীষণ সহযোগিতাপরায়ণ একজন শিল্পী।’ এদিকে ফারাহ্ রুমা অভিনীত নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও ছবিটির মুক্তি নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এটিই ফারাহ্ রুমা অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র। তাই ছবিটি নিয়ে অনেক স্বপ্নও ছিল তার।